পৃথিবীর পথে আর্টেমিস-২

পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার বা প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৬০ মাইল পথ অতিক্রম করে এবং চাঁদের পাশ দিয়ে ঘুরে ফিরছেন আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের ফেরার যাত্রায় প্রায় চার দিন সময় লাগবে। আজ ১০ এপ্রিল স্থানীয় সময় রাতে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের প্যাসিফিক মহাসাগরে অবতরণ করবেন তারা। এরপর হেলিকপ্টারে মহাকাশচারীদের পানি থেকে সংগ্রহ করে কাছের মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে পৌঁছে দেওয়া হবে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, জাহাজে অবস্থানকালে তাদের মেডিকেল চেকআপ করা হবে। এরপর তাদের আরও কয়েকদিন নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। উল্লেখ্য, ফ্লোরিডা রাজ্যের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে গত ১ এপ্রিল ১০ দিনের মিশনে চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করেন চার কিলোমিটার নভোচারী। তারা হলেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ ও জেরেমি হ্যানসেন। এর মধ্যে জেরেমি হ্যানসেন কানাডার নাগরিক। অ্যাপোলো মিশনের দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর চার নভোচারীকে নিয়ে নাসার মহাকাশযান আর্টেমিস-২ গত ১ এপ্রিল উড়াল দেয়। এই নভোচারীরা চাঁদের কক্ষপথে ১০ দিন ভ্রমণ করেন। কিন্তু তারা চাঁদের পৃষ্ঠে নামেননি। আর্টেমিস-৩ ও আর্টেমিস-৪ এর প্রস্তুতি : আর্টেমিস-২ মিশনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আর্টেমিস-৩ ও আর্টেমিস-৪ এর পরিকল্পনা করবে নাসা। বর্তমানে পরিকল্পনা অনুযায়ী, আর্টেমিস-৩ লঞ্চ হবে ২০২৭ সালে এবং আর্টেমিস-৪ লঞ্চ হবে ২০২৮ সালে। এই দুই মিশনে অন্তত একটি ব্যক্তিগত ল্যান্ডার প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। স্পেসএক্সের অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, তারা আশা করছে প্রথমে ২০২৬ সালে স্টারশিপের মধ্যে কক্ষপথে জ্বালানি স্থানান্তর, এরপর ২০২৭ সালে মানববিহীন চাঁদে অবতরণ এবং ২০২৮ সালে মানুষসহ চাঁদে অবতরণ।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন মহাকাশ বিষয়ক একটি নির্বাহী আদেশও এই সময়সূচির কথা জানিয়েছে। তারা আর্টেমিস মিশনের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছে। নতুন নাসা প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব চাঁদের পৃষ্ঠে মানববাহী মহাকাশযান অবতরণ করুক। তবে তিনি বলছেন, এই ল্যান্ডিংয়ের আগে কক্ষপথে জ্বালানি স্থানান্তর কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা জরুরি। সূত্র : সিএনএন, বিবিসি, রয়টার্স।
