ধর্ষকদের রক্ষকই আজ শিক্ষামন্ত্রী: রাহুল গান্ধী
অনলাইন ডেস্ক
ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রলহাদ জোশীর নাম ঘোষণা হতেই সুর চড়ালেন ভারতের লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বিজেপি নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, কেন্দ্র এমন একজন মানুষকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দায়িত্ব দিয়েছে, যিনি প্রকাশ্যে গণধর্ষণকারীদের পক্ষ নিয়েছিলেন। মোদি সরকারের এই নির্বাচনে তিনি গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার সময় বিলকিস বানোকে গণধর্ষণ ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যার অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ১১ জন আসামির সাময়িক মুক্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল ২০১৮ সালে। সেই সময় কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে প্রলহাদ জোশী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তিনি দাবি করেছিলেন, আসামিরা দীর্ঘ সময় জেলে কাটানোর পর আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এবং ভালো আচরণের ওপর ভিত্তি করেই তাঁদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। সরকারের ওই পদক্ষেপে তিনি কোনো অন্যায় দেখেননি বলেও মন্তব্য করেছিলেন। যদিও পরবর্তীকালে ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট গুজরাট সরকারের সেই মুক্তির আদেশ খারিজ করে দেয় এবং আদালত স্পষ্ট জানায়, ওই সিদ্ধান্তটি আইনি এখতিয়ার বহির্ভূত ছিল।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনের বাইরে মোদি সরকারকে নিশানা করে রাহুল গান্ধী বলেন, দেশজুড়ে তরুণ সমাজ ও ছাত্রছাত্রীরা যখন শিক্ষা ব্যবস্থার চরম বিশৃঙ্খলা নিয়ে আন্দোলন করছে, ঠিক তখনই এমন একজন ব্যক্তিকে এই পদে বসানো হলো। যে ব্যক্তি গণধর্ষণকারীদের সুরক্ষায় কথা বলেন, তাঁর চেয়ে নিকৃষ্ট মনোভাব আর হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভায় বহু বিকল্প থাকা সত্ত্বেও কেন এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিত্বকে শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাহুল।
সূত্র: এনডিটিভি
