ধর্ষণের ঘটনা ফাঁস হওয়ার ভয়ে হত্যা

গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে নিখোঁজ হয় ফাতেমা খাতুন শায়লা (২৩) নামের এক গৃহবধূ। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর কালিয়াকৈর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। জিডি করার তিন দিন পর কালীগঞ্জ থানার নাগরী ইউনিয়নের মিরেরটেক এলাকার একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় অজ্ঞাতনামা এক নারীর গলিত মরদেহ (কঙ্কাল)। এ সময় মরদেহের পাশ থেকে পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ওড়না ও জুতা দেখে পরিবারের লোক সনাক্ত করেন এটা নিখোঁজ সেই গৃহবধূ ফাতেমা খাতুন শায়লা। এরপর চাঞ্চল্যকর অজ্ঞাতনামা হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। অবশেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামি মো: আব্দুল মজিদ মিয়াকে (৪২) গ্রেফতার করা হয় এবং আসামি আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধিতে আসামি মজিদ জানায়, শায়লাকে চাকরির প্রলোভনে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষণের ঘটনা জানাজানির ভয়ে তাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা শেষে মরদেহ গুম করে। এরপর সে আত্মগোপনে চলে যায়।

শুক্রবার দুপুরে কালীগঞ্জ থানায় আয়োজিত এক সংসাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আলাউদ্দিন। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকা থেকে আসামি আব্দুল মজিদ মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামি আব্দুল মজিদ গাজীপুর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেয়।
সংসাদ সম্মেলনে কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আসাদুজ্জামান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: আনোয়ার হোসেন পিপিএম উপস্থিত ছিলেন।

গ্রেফতারকৃত আসামি আব্দুল মজিদ মিয়া পাবনা জেলার আটঘরিয়া থানার রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত আছিম উদ্দিন শেখের ছেলে। সে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানা সফিপুর বোর্ডমিল এলাকায় থাকতো। মজিদ নিহত শায়লার আপন খালু শ্বশুর ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights