ধূমপান ছেড়ে ভেপিং, বাড়ছে ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি: গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক

ধূমপান ত্যাগ করার পরও ই-সিগারেট বা ভেপ ব্যবহারের অভ্যাস স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর পরিবর্তে উল্টো বিপদ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের খ্যাতনামা সাময়িকী ‘নেচার মেডিসিন’-এ প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পর যারা ভেপিং শুরু করেন, তাদের ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া এবং এর ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের চালানো এই গবেষণায় প্রায় সাড়ে ৪৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণার পটভূমি তুলে ধরে গবেষকরা জানান, ধূমপানের পূর্ব ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ওপর ভেপিংয়ের ক্ষতিকর প্রভাব এবং ফুসফুসের ক্যান্সারের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখতেই এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণার শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের মূলত তিনটি ভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছিল, যার মধ্যে বর্তমান ধূমপায়ী, স্বল্পমেয়াদী ধূমপান ত্যাগকারী এবং দীর্ঘমেয়াদী ধূমপান ত্যাগকারীরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তাঁরা নিয়মিত ভেপ ব্যবহার করতেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। বয়স, লিঙ্গ এবং পূর্বে থাকা বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার বিষয়গুলোকে সুচারুভাবে সমন্বয় করেই এই পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয়েছে।

বিশ্লেষণের ফলাফলে দেখা গেছে, যেসব ব্যক্তি আগে নিয়মিত ধূমপান করতেন কিন্তু পরবর্তীতে তা ছেড়ে দিয়েছেন এবং এরপর ভেপিংয়ে অভ্যস্ত হয়েছেন, সাধারণ ধূমপান ত্যাগকারী অথচ কোনো ধরনের ভেপ ব্যবহার করেন না এমন ব্যক্তিদের তুলনায় তাদের ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৫৬ শতাংশ বেশি। শুধু আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিই নয়, এর চেয়েও ভয়ংকর তথ্য হলো; যারা ভেপ ব্যবহার করেন না তাদের তুলনায় ভেপ ব্যবহারকারী এই নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সারে মৃত্যুর হার প্রায় ৯১ শতাংশ বেশি ছিল।

তবে গবেষকরা এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, এই গবেষণাটি সরাসরি কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণ করেনি। যেহেতু এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা, তাই এটি কেবল ভেপিং এবং ফুসফুসের ক্যান্সারের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক বা পারস্পরিক যোগসূত্রকে নির্দেশ করেছে। গবেষকদের মতে, এপিডেমিওলজিকাল এবং বায়োলজিক্যাল বিভিন্ন গবেষণায় ই-সিগারেটের সাথে শ্বাসতন্ত্রের নানা জটিল রোগের নিবিড় সংযোগের কথা বলা হলেও, ফুসফুসের ক্যান্সারের সাথে ই-সিগারেটের সুনির্দিষ্ট এবং সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণের পরিধি এখনও পর্যন্ত বেশ সীমিত।

বিশেষ করে এই গবেষণাটি মূলত এমন ব্যক্তিদের ওপর আলোকপাত করেছে, যাদের অতীতে সাধারণ সিগারেট সেবনের ইতিহাস রয়েছে। আগে কখনো সাধারণ সিগারেট না খেয়ে যারা কেবল সরাসরি ভেপ ব্যবহার শুরু করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ফুসফুসের ক্যান্সারের দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি কেমন হতে পারে, তা এই গবেষণায় নির্ধারণ করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights