নড়াইলে পুলিশ কর্তৃক জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
শুভ সরকার , নড়াইল
নড়াইলে পুলিশ কর্তৃক জোরপ‚র্বক জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সদর উপজেলার শেখহাটি পুলিশ ক্যাম্প চত্বরে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শওকত মিনার ছেলে হাসান মিনা লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার জমি আমি ফেরৎ চাই, পুলিশের হয়রানির বিচার চাই। এসময় ইউপি মেম্বার মো. আনোয়ার হোসেন, শওকত মিনা, মানিক মিনা, নাইমুল ইসলাম, সাহিন মিনা, মিনহাজ সরদার, রফিকুল ইসলাম মনা প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
হাসান মিনা অভিযোগ করে বলেন, বিগত ২৯/০৯/১৯৯৩ ইং তারিখে ৬ শতাংশ, ০৭/১০/১৯৯৩ ইং তারিখে পৌনে পাঁচ শতাংশ এবং ২৪/১১/১৯৯৩ ইং তারিখে ৪ শতাংশ, সর্বমোট পৌনে পনের শতাংশ জমি বিভিন্ন সময় কবলা ম‚লে ক্রয় করে উক্ত জমির উপর একটি রাইস মিল, একটি কাপড়ের দোকান ও একটি মুদি দোকান দিয়ে কোন রকম জীবিকা নির্বাহ করছিলাম। কিন্তু, অত্যান্ত দুঃখের বিষয় গত ১৫/০৪/২০০১ ইং তারিখে সেখহাটি পুলিশ ক্যাম্পের তৎকালীন কতিপয় পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা এবং তৎকালীন পুলিশ সুপার মোঃ সোহরাব হোসেন এর যড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বিভিন্ন হামলার-মামলা হুমকিসহ দোকান-পাট ভাংচুর করে আমাকে উক্ত সম্পত্তি থেকে বে-দখল করেন। বিষয়টি গত ১৫/০৪/২০০১ ইং তারিখে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট অভিযোগ করি। অভিযোগের ভিত্তিতে স্মারক নং-সেল ২-২০০১/৪১৬ (নড়াইল), তারিখ- ২৫/০৪/২০০১ ইং ম‚লে পুলিশ হেড কোয়ার্টার বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন চেয়েছিলেন। উক্ত তদন্ত প্রতিবেদন ভুক্তভোগী শওকত মিনার পক্ষে ছিল।
হাসান মিনা আরো বলেন, তৎকালীন পুলিশ সুপার দলিল নং-১৭২১/১৯৯৯ ম‚লে দাতা মোছাঃ হায়াতুন্নেছা থেকে পেয়েছেন মর্মে যে দাবী করেছিলেন তা আদৌ সত্য নয়। হায়াতুন্নেছা অনেক আগেই ১৯৭৫ সালে তাঁর আপন ভাই মোক্তার আলীর নিকট বিক্রয় করেছিলেন। নড়াইলের কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তা হায়াতুন্নেছাকে দিয়ে তাঁর আপন ভাইকে প্রদত্ত কবলা দলিল বাতিলের মামলা করেন (নং-৪৯/৯৯) যা শুনানী অন্তে বিজ্ঞ আদালত বিগত ২৭/০৭/২০০০ ইং তারিখে উক্ত মামলা খারিজ করে রায় প্রদান করেন। বিজ্ঞ আদালত ১৯৭৫ সালে হায়াতুন্নেছা তাঁর ভাইকে প্রদত্ত দলিল সঠিক মর্মে ঘোষণা করেন, যা এখনও পর্যন্ত বলবৎ আছে। সুতরাং ১৯৯৯ সালে পুলিশ সুপার নড়াইলকে প্রদত্ত নিরূপণ দলিল বে-আইনী, অকার্যকর এবং প্রকৃতপক্ষে পুলিশ সুপার নড়াইলকে প্রদত্ত ৫০ (পঞ্চাশ) শতক জমির নিরূপণ দলিল ম‚লে দাবী অবান্তর, বে-আইনী ও বাতিল বলে রায়ে উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে উক্ত সম্পত্তি নিয়ে ছাহাম বন্টনের মামলা (নং-১৬৫/২০০২) রুজু হয়। এ মামলায় গত ০১/১২/২০০৩ তারিখে আদালত ডিক্রী প্রদান করে ভুক্তভোগী শওকত মিনাকে তাঁর পৌঁনে ১৫ শতক জমি সর্বস্বীকৃতি মতে ছাহাম বন্টনের জন্য আদালত কর্তৃক ঘোষিত হয়। বিজ্ঞ আদালত রায়ে আরো উল্লেখ করেন পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক উক্ত জমিতে অবৈধভাবে পুলিশ ক্যাম্প নির্মান করেছেন। উক্ত পুলিশ ক্যাম্প উচ্ছেদ করে জমির মালিক (শওকত মিনা) তাঁর অংশ দখল নিতে পারবেন।
আমি একজন কৃষক পরিবারের সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে আমি এলাকায় সুনামের সাথে ব্যবসা করছি। প্রায় দুইযুগ ধরে পুলিশের হয়রানির শিকার হয়ে বিভিন্ন আদালতে ঘুরতে ঘুরতে আর্থিক ভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছি। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা পেয়েও আমার জমি দখল করতে পারছি না। সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ঘুরে কোন প্রতিকার না পেয়ে আপনাদের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এ ব্যাপারে নড়াইল পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবির বলেন আদালতের রায়ের পর রিভিশন করা হয়েছে। মামলা চলমান।## ছবি আছে।
