নড়াইলে শুভ মহালয়ার মাধ্যমে দেবী দূর্গাাকে আহবান

শুভ সরকার , নড়াইল থেকে
আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষ তিথিকে বলা হয় ‘দেবীপক্ষ’। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, এদিন কৈলাসের শ্বশুরালয় ছেড়ে সন্তানদের নিয়ে পৃথিবীতে আসেন দেবী দুর্গা। তখন থেকেই দুর্গাপূজার ক্ষণ গণনা শুরু হয়।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন শুভ মহালয়া ।
নড়াইলে শুভ মহালয়ার মাধ্যমে দূর্গা দেবীকে আহবান করা হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় নড়াইলের বাঁধাঘাট কেন্দ্রীয় সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরে সুর দরিয়া ও গ্রেভ শিল্পীগোষ্টির যৌথ পরিবেশনায় দেবীর পুর্ণলগ্ন সূচনা করা হয়। মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেবী দুর্গার আহবান। শুরু হয় চান্ডীপাঠ। আর এই চন্ডিপাঠেই আছে দেবী দুর্গার সৃষ্টির বর্ণনা এবং দেবীর প্রশান্তি।
চন্ডী পাঠ করেন বাঁধাঘাট সার্বজনীন কেন্দ্রীয় দূর্গা মন্দিরের সাধারন সম্পাদক নিলাংশু শেখর সরকার নিপু,প্রসাদ বিশ^াস ও প্রতুল হাজরা ।
এ সময় নড়াইল সম্মিলিত সাংষ্কৃতিক জোটের সভাপতি মলয় কুমার কুন্ডু। বাাঁধাঘাট সার্বজনীন মন্দিরের সভাপতি শিশির কুমার বৈরাগী,মন্দিরের কার্যনিবার্হী সভাপতি অসিম কাপুড়িয়া,এস এম সুলতান সংগ্রশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জীসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। শুভ মহালয়ার অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগীত শিল্পী প্রতুল হাজরা ।
এই দিন থেকেই শুরু অমাবস্যার এবং পরবর্তী পূর্ণিমায় কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার মধ্য দিয়ে শেষ হয় দেবীপক্ষ। মহালয়ার পাঁচ দিন পর ২০অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে শুরু হবে মূল দুর্গোৎসব।
পুরাণ অনুযায়ী, মহালয়ার দিনেই ব্রহ্মার কাছ থেকে মহিষাসুরকে বধ করার দায়িত্ব পান দেবী দুর্গা। ব্রহ্মার বরেই মহিষাসুর মানুষ ও দেবতাদের অজেয় হয়ে উঠেছিলেন। ফলে তাকে পরাজিত করার জন্য ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর যে মহামায়ারূপী নারী শক্তি তৈরি করেন তিনিই দেবী দুর্গা। দশভুজা দুর্গা টানা ৯ দিন যুদ্ধ করে মহিষাসুরকে বধ করেন।
এবার দেবী মর্ত্যে আসছেন ঘোড়ায় চেপে। পুরাণ অনুযায়ী, দুর্গা ঘোড়ার পিঠে চড়ে এলে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ইত্যাদি পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। মহালয়া ও দূর্গা পূজা উপলক্ষে নড়াইলের মন্দিরে মন্দিরে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights