নতুন মৌসুমের আগে গোলমেশিনের খোঁজে বার্সেলোনা

অনলাইন ডেস্ক

রবার্ট লেভানডফস্কির বিদায়ের পর নতুন মৌসুমে একজন নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার খুঁজছে বার্সেলোনা। সেই খোঁজ এখনও চলছে। দলটির প্রধান কোচ হান্সি ফ্লিকও ঘোষণা দিয়েছেন, দলবদলের বাজারে বার্সেলোনাকে কিছু একটা করতেই হবে।

সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নতুন ‘নাম্বার নাইন’ খোঁজার প্রসঙ্গে নিজেদের অবস্থান জানান দেন ফ্লিক।

“আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকোর ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। আমরা জানি, আমাদের কিছু একটা করতে হবে। তবে সেটি ফেরান তোরেসের পরিস্থিতির ওপরও নির্ভর করছে। এরপর দেখা যাবে কী হয়।”

লেভানডফস্কি চার বছর বার্সেলোনায় কাটিয়ে এবার মেজর লিগ সকারের ক্লাব শিকাগো ফায়ারে যোগ দিয়েছেন।

অন্যদিকে দলের আরেক স্ট্রাইকার ফেরান তোরেসের ভবিষ্যৎও এখন অনিশ্চিত। বর্তমান চুক্তির মেয়াদ বাকি রয়েছে আর মাত্র এক বছর। বার্সেলোনা চুক্তি নবায়ন করতে আগ্রহী হলেও পিএসজি ও ইংল্যান্ডের কয়েকটি ক্লাব তাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের হয়ে ফাইনালে জয়সূচক গোল করা তোরেস নিজেও ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা রেখেছেন। এনবিসিকে তিনি বলেন, ‘বার্সেলোনার সঙ্গে আমার চুক্তি আছে। কিন্তু ফুটবলে কখন কী হয়, বলা যায় না। শুধু সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অপেক্ষায় আছি। এখনও কিছু জানি না।’

নতুন স্ট্রাইকারের খোঁজে বার্সেলোনার প্রথম পছন্দ আতলেতিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেস। ক্লাব সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা এরই মধ্যে জানিয়েছেন, আলভারেসকে দলে আনতে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তবে দুই ক্লাবের আলোচনা আপাতত স্থবির হয়ে আছে। আলভারেসকে পাওয়া না গেলে বিকল্প পরিকল্পনাও রাখছে কাতালান ক্লাবটি। ইংলিশ ক্লাব বোর্নমাউথের তরুণ ফরোয়ার্ড এলি জুনিয়র ক্রুপির খোঁজও নিয়েছিল বার্সেলোনা। তবে পায়ে চোট পাওয়ায় আপাতত তিনি বোর্নমাউথেই থাকছেন।

নতুন স্ট্রাইকার না এলে বর্তমান স্কোয়াড থেকেই সমাধান খুঁজতে হতে পারে ফ্লিককে। তার মতে, গ্রীষ্মে দলে যোগ দেওয়া অ্যান্থনি গর্ডন ও করিম আদিয়েমি- দুজনই প্রয়োজনে সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলতে পারেন। এমনকি লামিন ইয়ামালও মাঝখানে খেলতে সক্ষম।

“লামিন এক-দুটি ম্যাচে মাঝখানে (সেন্টার ফরোয়ার্ড) খেলেছে। সে অসাধারণ, বিশ্বমানের ফুটবলার। তাই এই ভূমিকাতেও মানিয়ে নিতে পারে। তবে আমাদের মূল পরিকল্পনা তাকে ডান দিকেই খেলানো। এরপর পরিস্থিতি কী হয়, সেটি দেখা যাবে।”

“গর্ডন ও আদিয়েমি দুই পাশেই খেলতে পারে। আবার প্রয়োজনে নাম্বার নাইন হিসেবেও খেলতে পারে। আমাদের হাতে বেশ কয়েকটি বিকল্প আছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কী হয়।”

আগামী ২৩ আগস্ট এলচের মাঠে ম্যাচ দিয়ে স্প্যানিশ লা লিগার নতুন মৌসুম শুরু করবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। তার আগে আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী করাই এখন ক্লাবের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights