প্রাণের প্রধান তিন শর্তই পূরণ! প্রথমবারের মতো বাসযোগ্য গ্রহের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

অনলাইন ডেস্ক

পৃথিবী থেকে ৪৯ আলোকবর্ষ দূরে সন্ধান মিলেছে ‘এলএইচএস ১১৪০বি’ নামক এক গ্রহের। ‘সুপার-আর্থ’ খ্যাত এই গ্রহে এবার বায়ুমণ্ডল থাকার জোরালো প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যদিও চূড়ান্ত নিশ্চয়তার জন্য আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন, তবে সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা নিয়ে দারুণ আশাবাদী তারা।

‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার প্রধান প্রণেতা কলিন চেরুবিম জানান, পৃথিবীর চেয়ে পাঁচগুণ ভারী গ্রহটি মূলত পাথুরে। এর লোহায় তৈরি কেন্দ্র ও তরল জল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, এটি তার নক্ষত্রের ‘গোল্ডিলকস জোন’ বা বাসযোগ্য অঞ্চলে ঘুরছে, যেখানে তাপমাত্রা জল তরল রাখার জন্য একদম উপযুক্ত।

১৯৯০-এর দশক থেকে এ পর্যন্ত ৬,২০০টিরও বেশি এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কৃত হয়েছে। তবে এটি নিশ্চিত হলে, এটিই হবে বাসযোগ্য অঞ্চলে থাকা প্রথম পাথুরে গ্রহ, যেখানে বায়ুমণ্ডলের খোঁজ মিলল।

বিজ্ঞানী চেরুবিম জানান, প্রাণের সরাসরি প্রমাণ না মিললেও এটি অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী। কারণ পাথুরে পৃষ্ঠ, উপযুক্ত তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডল—প্রাণের এই প্রধান তিন শর্তই এখানে বিদ্যমান।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চিলির ম্যাগেলান ক্লে টেলিস্কোপ ব্যবহার করে গ্রহটি থেকে হিলিয়াম গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার প্রমাণ পান চেরুবিম। গ্রহটি হাইড্রোজেন হারালেও হিলিয়াম ধরে রেখেছে। শুধু হিলিয়ামে প্রাণ বাঁচা সম্ভব না হলেও ভবিষ্যতে অক্সিজেনের মতো অণু পাওয়ার ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী।

গ্রহটি তুলনামূলক শীতল একটি ‘রেড ডোয়ার্ফ’ বা লাল বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে। এসব নক্ষত্রের ক্ষতিকর এক্স-রে ও অতিবেগুনি বিকিরণ সাধারণত গ্রহের বায়ুমণ্ডল ধ্বংস করে দেয়। এমন প্রতিকূলতার পরও যদি পাথুরে গ্রহটিতে বায়ুমণ্ডল টিকে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়, তবে তা হবে এক যুগান্তকারী আবিষ্কার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights