নরডিক কিছু ব্যতিক্রমী অভ্যাস জীবনকে করতে পারে চাপমুক্ত-সহজ

অনলাইন ডেস্ক

উচ্চমানের জীবনযাপন, সুদৃঢ় সামাজিক বন্ধন এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য নরডিক দেশগুলো বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। সুইডেন, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের মানুষের এই অনন্য জীবনধারার পেছনে কোনো বিশেষ রহস্য নেই; বরং প্রকৃতিঘেঁষা সাধারণ কিছু দৈনন্দিন অভ্যাসই তাঁদের জীবনকে করে তুলেছে শান্ত ও সুন্দর। বাইরের বিশ্বের অনেকের কাছে প্রথম দর্শনে এই চর্চাগুলো খানিকটা অদ্ভুত মনে হতে পারে, তবে অল্প খরচ কিংবা একদম বিনা খরচে এই অভ্যাসগুলো নিজের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমেই নরডিক জীবনের মূল ভিত্তি গড়ে ওঠে। নরওয়েতে ‘ফ্রিডলুফটস্লেভ’ নামের একটি চর্চা রয়েছে, যার অর্থ উন্মুক্ত বাতাসে বসবাস। আবহাওয়া যেমনই হোক না কেন, প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট খোলা বাতাসে হাঁটার অভ্যাস ঘুমের চক্র উন্নত করে এবং মানসিক চাপ কমাতে জাদুকরী ভূমিকা রাখে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তাঁদের পোশাক নির্বাচন সংক্রান্ত এক বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি। নরডিকদের বিশ্বাস খারাপ আবহাওয়া বলে কিছু নেই, আসল সমস্যা হলো ভুল পোশাক। তাই আবহাওয়ার উপযোগ সঠিকভাবে প্রস্তুত হয়ে বাইরে বের হলে বছরের যেকোনো সময়েই প্রকৃতিকে উপভোগ করা সম্ভব। এমনকি ঘরের জানালায় দাঁড়িয়ে বা বাইরে বসে নির্ভাবনায় ৫ মিনিট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করার মতো একটি অভ্যাসের মধ্য দিয়ে অনিয়ন্ত্রণযোগ্য বিষয়কে মেনে নেওয়ার মানসিকভাবে প্রস্তুতি গড়ে ওঠে, যা দৈনন্দিন দুশ্চিন্তা কমাতে বেশ কার্যকর।

একঘেয়েমি দূর করতে এবং মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সুনির্দিষ্ট কিছু পারিবারিক ও সামাজিক অনুশাসন অনুসরণ করেন উত্তর ইউরোপের এই বাসিন্দারা। সুইডেনে ‘ফিকা’ নামে এক অনন্য সামাজিক সংস্কৃতি রয়েছে, যা কেবল এক কাপ কফি পানের চেয়েও অনেক বেশি কিছু। সব ধরনের গ্যাজেট দূরে সরিয়ে রেখে কাজের মাঝে কিছুটা সময় বিশ্রাম নেওয়া এবং অন্যকে সময় দেওয়ার নামই হলো ফিকা। একই সঙ্গে সুইডিশদের ‘লাগম’ (ঠিক যতটুকু প্রয়োজন) নীতি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো বা অতি-ভোগবাদ এড়াতে সাহায্য করে। ফিনল্যান্ডের বিখ্যাত ‘সিসু’ সংস্কৃতি প্রকাশ করে নীরবে অদম্য সাহস ও ধৈর্য প্রদর্শনের মন্ত্র। সকালের দিকে একটি কঠিন কাজ সম্পন্ন করে ফেলার মধ্য দিয়ে এটি চর্চা করা যায়, যা সারাদিনের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেয়।

হোমলি পরিবেশ তৈরি করা ও সম্প্রদায়ের মেলবন্ধন নরডিক জীবনকে আরও সতেজ রাখে। ফিনল্যান্ডের বিখ্যাত সউন সংস্কৃতি অর্থাৎ শরীরকে গরম ও ঠান্ডার মধ্যে পর্যায়ক্রমে রাখা তাদের এক সুপরিচিত ঐতিহ্য, যা স্নায়ুকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করে। আবার সন্ধ্যা নেমে এলে ঘরে মোমবাতি জ্বালানোর সাধারণ এক আলো-আঁধারি প্রথা মনকে শান্ত করে সারাদিনের ক্লান্তি দূর করার বার্তা দেয়। এর পাশাপাশি নরওয়ের ‘দুগনাদ’ ঐতিহ্য প্রতিবেশীদের মাঝে এক অবিশ্বাস্য সংহতি তৈরি করে, যেখানে কোনো অর্থ ছাড়াই সবাই দলবেঁধে পাড়া বা সমাজের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করেন। সামান্য কয়েকটি জীবনবোধ ও সদিচ্ছা বজায় রেখেই নরডিকদের মতো দৈনন্দিন জীবনের জটিলতাগুলো কাটিয়ে উঠে একটি সহজ, সুন্দর ও মানসিক চাপমুক্ত জীবন গড়ে তোলা সম্ভব।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights