‘কেউ উঠবেন না, সিটবেল্ট বাঁধুন’—মাঝ আকাশে বিমানে আতঙ্ক
অনলাইন ডেস্ক
তীব্র ঝাঁকুনিতে (টার্বুলেন্স) মাঝ আকাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে। এ সময় বিমানবালাদের চিৎকার করে যাত্রীদের সিটবেল্ট বাঁধতে এবং কেউ যেন আসন ছেড়ে না ওঠেন, সেই নির্দেশ দিতে দেখা যায়। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার এয়ার ইন্ডিয়ার AI379 ফ্লাইটটি থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে নয়াদিল্লি যাচ্ছিল। পথে বিমানটি তীব্র টার্বুলেন্সের কবলে পড়ে। এতে বিমানের ভেতরে থাকা যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া প্রায় ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওতে বিমানবালাদের চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘দয়া করে সিটবেল্ট বাঁধুন। কেউ আসন থেকে উঠবেন না। সিটবেল্ট বাঁধুন।’
ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানের ওপরের লাগেজ রাখার কয়েকটি বক্সের ঢাকনা খুলে গেছে। কিছু ঢাকনা খুলে করিডোরের ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিমানের মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে যাত্রীদের লাগেজ। কেবিনের ছাদে ফাটল এবং বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিহ্নও দেখা গেছে। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে কয়েকজন যাত্রী একে অপরের হাত ধরে নিরাপদে থাকার চেষ্টা করেন। একজন নারীকে মাথা নিচু করে দুই হাতে মাথা ধরে বসে থাকতে দেখা যায়।
ভিডিও ধারণ করা এক যাত্রী মিনচেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে তাঁর জীবনের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ দুই ঘণ্টা’ বলে বর্ণনা করেন। বিমানে সিটবেল্টের সংকেত বন্ধ থাকলেও যাত্রীদের সব সময় সিটবেল্ট বাঁধা রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
বিমানটি দিল্লিতে নিরাপদে অবতরণ করে। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিমানে ১৩৭ জন যাত্রী—যাদের মধ্যে তিনজন শিশু—এবং আটজন ক্রু সদস্য ছিলেন। বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের বিমানবন্দরের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেয়া হয়।
যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানের উচ্চতায় হঠাৎ বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটায় অনেকে আসন থেকে ছিটকে পড়েন। এক যাত্রী জানান, তিনি বিমানের ছাদে মাথায় আঘাত পান এবং পরে নিচে পড়ে যান।
ইতালির নাগরিক ভিভিয়ানা নামের এক যাত্রী জানান, টার্বুলেন্স শুরু হওয়ার পর তাঁর বোনকে আসন থেকে ছিটকে ওপরে উঠে যেতে দেখেন। তাঁর মা মাথায় আঘাত পান। পেছনের সারিতে থাকা কয়েকজন যাত্রীও আহত হন। একজন পুরুষ যাত্রীর মুখে রক্ত দেখতে পান বলেও জানান তিনি।
ভিভিয়ানা বলেন, ‘পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, আমরা মনে করেছিলাম বিমানটি হয়তো আর নিরাপদে নামতে পারবে না, আর বাঁচবো না। আতঙ্কে আমি কাঁদছিলাম এবং ঘটনার পর আমার শুনতেও সমস্যা হচ্ছিল।’
ঘটনার পর আটজন যাত্রী ও চারজন কেবিন ক্রুকে হাসপাতালে নিয়ে বিস্তারিত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তাদের সবাই বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছেন বলে জানা গেছে।
