নরসিংদীতে পাঁচ শতাধিক মানুষের মুখে খাবার তুলে দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ
অনলাইন ডেস্ক
মানুষের পাশে মানুষ এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে নরসিংদীতে পাঁচ শতাধিক অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে একবেলার খাবার বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
সোমবার দুপুরে নরসিংদী পৌর পার্কে ‘দারিদ্র্যের হোটেল’ সংগঠনের সহযোগিতায় এ মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুর এলাহী, এমপি। তিনি নিজ হাতে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে খাবার তুলে দেন। এসময় খাবার নিতে আসা মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন তিনি।
পাঁচ শতাধিক মানুষের জন্য আয়োজিত এ খাবার বিতরণ কর্মসূচিকে ঘিরে দুপুরে পৌর পার্কে তৈরি হয় মানবিক এক আবহ। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়ে একবেলার খাবার গ্রহণ করেন। খাবার পেয়ে অনেকের মুখেই ফুটে ওঠে স্বস্তি ও আনন্দের হাসি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মঞ্জুর এলাহী বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। মানুষের বিপদে ও প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই প্রকৃত মানবিকতা নিহিত। বসুন্ধরা শুভসংঘের এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও নরসিংদী জেলা কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান মনির। তাঁর তত্ত্বাবধানে বসুন্ধরা শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবকরা খাবার বিতরণসহ পুরো কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রাসেল বিন হাসানাত, দারিদ্র্য হোটেলের স্বপ্নদ্রষ্টা আসাদুজ্জামান নূর, আজহার শামীম, প্রনয় সাহা, আশিক, ইফাদ সহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীরা।
‘দারিদ্র্যের হোটেল’ সংগঠনের সদস্যরাও কর্মসূচির আয়োজন ও খাবার বিতরণে সহযোগিতা করেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাঁচ শতাধিক মানুষের কাছে একবেলার খাবার পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান মনির জানান, বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন ধরে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় নরসিংদীতেও মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষুধার্ত মানুষের হাতে একবেলার খাবার তুলে দেওয়া শুধু একটি সামাজিক কর্মসূচি নয়, এটি মানুষের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সমাজে বৈষম্য কমানোর পাশাপাশি মানবিকতার বন্ধন আরও শক্তিশালী হবে।
কর্মসূচিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক, ‘দারিদ্র্যের হোটেল’ সংগঠনের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মানবিক এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উপস্থিত সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা বলেন, শুধু খাবার নয়, বিপদের সময় কেউ পাশে দাঁড়াচ্ছে, এ অনুভূতিটিই তাদের কাছে সবচেয়ে বড়। মানুষের কল্যাণে বসুন্ধরা শুভসংঘের এমন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এমন প্রত্যাশা করেন তারা।
