নাহিদের গতি বাউন্স মিস করবে দল
ক্রীড়া প্রতিবেদক
জিম্বাবুয়ে সফরে ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজে খেলেছেন। হারারেতে একমাত্র টেস্টটি খেলেননি। টেস্টটিতে তার গতি ও বাউন্স মিস করেছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। নাহিদ রানার অনুপস্থিতিই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে বেসামাল ছিল টাইগার পেস বিভাগ। নাজমুল বাহিনীর বোলাররা কোনো চাপই ফেলতে পারেনি জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের ওপর। ফল, ইনিংস ব্যবধানে হার। টেস্ট না খেলালেও বিশ্রাম দিয়ে ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজে খেলানো হয় তাকে। গতির ঝড় তুলে রেকর্ড গড়েছেন প্রথম ওয়ানডেতে। সিরিজ শেষে মাঠের বাইরে ছিটকে পড়তে হয় ফাস্ট বোলারকে। এই ছিটকে পড়ায় আক্ষেপ ঝরেছে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের কণ্ঠে। মিরপুর স্টেডিয়ামে গতকাল মিডিয়ার মুখোমুখিতে হতাশা ফুটে উঠেছে প্রধান নির্বাচকের কণ্ঠে। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুটি টেস্ট খেলতে ৩১ জুলাই ঢাকা ছাড়বেন নাজমুলরা। সফরে প্রথম টেস্ট ডারউইনে ১৩-১৭ আগস্ট এবং ম্যাকেইতে দ্বিতীয় টেস্ট ২২-২৬ আগস্ট। টেস্ট দুটির জন্য নাহিদ রানা, লিটন দাসকে বাইরে রেখে যে স্কোয়াড গঠন করেছেন নির্বাচক প্যানেল, এজন্য চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে হয়েছে বাশারদের। মিডিয়ার মুখোমুখিতে সে কথাই বলেছেন প্রধান নির্বাচক বাশার, ‘আমরা এক সপ্তাহ আগে দল ঘোষণা দিতে চেয়েছিলাম। টি-২০, ওয়ানডে ও টেস্ট-তিন ফরম্যাটে সবচেয়ে মীমাংসিত দল। গত কয়েকটি সিরিজে ভালো খেলছিলাম। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়া সিরিজটি নিয়ে আমরা ভীষণ উত্তেজিত ছিলাম। অনেক দিন পর অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছি, সেজন্য নয়। ওরা অনেক শক্তিশালী দল। ওদের বিপক্ষে খেলা অনেক বড় বিষয়। ওদের বিপক্ষে ভালো খেলার জন্য যেরকম প্রস্তুতি দরকার ছিল, সেটা ছিল আমাদের। কিন্তু ইনজুরি আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা সেরা দলটি দিতে পারিনি। ইনজুরি নিয়ে বেশি ভাবতে চাই না। যে দলটি দিয়েছি, আমি আশাবাদী অস্ট্রেলিয়াতে ভালো খেলার।’
ডানহাতি ফাস্ট বোলার নাহিদ এ মুহূর্তে দলের সেরা পেসার। মাংসপেশির টানে এই পেসারকে ৬-৮ সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। ২০২৩ সালের পর তার জায়গায় ফিরেছেন ডানহাতি পেসার মুশফিক হাসান। বেশ জোরে বল করলেও অভিজ্ঞতা নেই মুশফিকের। অথচ নাহিদ ১২ টেস্টে উইকেট নিয়েছেন ৩৮টি। নাহিদের অনুপস্থিতিতে পেস বিভাগ সামলাতে হবে তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেন ও মুশফিককে। তাসকিন ১৯ টেস্টে ৫৫ উইকেট, এবাদত ২৪ টেস্টে ৪৩, হাসান মাহমুদ ১৪ টেস্টে ৩৬টি এবং খালেদ ১৮ টেস্টে ৩৪ উইকেট নেন। নাহিদের বিষয়ে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক যে, এখানে ইনজুরিতে পড়েছেন। ইনজুরি অস্ট্রেলিয়া গিয়েও লাগতে পারত। যতই চেষ্টা করেন, একজন ফাস্ট বোলারকে কখনোই পুরো চোটমুক্ত রাখা সম্ভব নয়। ফাস্ট বোলারদের ইতিহাস খেয়াল করলে এমনটাই দেখবেন। হাসান মাহমুদ আমাদের মূল বোলার ছিল। এখন তাসকিন রয়েছে।’
ইনজুরির জন্য ডারউইন টেস্ট মিস করবেন লিটন। তার জায়গায় প্রথম টেস্টের জন্য ফিরেছেন জাকের আলি অনিক। অস্ট্রেলিয়ার হার্ড ও বাউন্সি উইকেটের বিবেচনায় পাঁচ বছর পর দলে ফিরেছেন বাঁ-হাতি ড্যাশিং ব্যাটার সৌম্য সরকার। দুজনকে নেওয়ার ব্যাখ্যায় প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘জাকের যখন টেস্ট খেলছিল তখন সে খারাপ খেলছিল না। কিন্তু ফর্মে ফিরতে লড়াই করছিল। আমরা চাই জাকের ফিরুক। আমাদের দলে বাঁ-হাতি ব্যাটারদের সংখ্যা বেশি। একমাত্র ডানহাতি ওপেনার মাহামুদুল হাসান জয়। ইদানীং সে ফর্মে নেই। সেজন্যই সৌম্যকে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। জাতীয় ক্রিকেটে রানও করেছে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। মোট টেস্ট খেলেছে ৬টি। ২০০৩ সালে ডারউইন ও কেয়ার্নসে দুটি টেস্টেই হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে। টাইগাররা ২০০৬ ও ২০১৭ সালে বাকি দুটি সিরিজ খেলেছে ঘরের মাটিতে। ২০১৭ সালে মিরপুরে ২০ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। এ ছাড়া বাকি সব টেস্টেই হেরেছে। ২৩ বছর আগে স্টিভ ওয়াহর নেতৃত্বে শক্তিশালী দল খেলেছিল অস্ট্রেলিয়ার। এবারও সিরিজে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বে শক্তিশালী দল খেলবে।
