নিজ ঘরে ‘অশান্তি’, তবু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতায় পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক

নিজ দেশের ভেতর নানা সংকট থাকা সত্ত্বেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় এগিয়ে এসেছে পাকিস্তান। কূটনৈতিক তৎপরতায় নিজেদের সক্রিয়ভাবে সামনে এনে ইসলামাবাদ সম্ভাব্য আলোচনার কেন্দ্র হিসেবেও প্রস্তাব দিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান প্রদান চালাচ্ছে। আলোচনার জন্য ইসলামাবাদকে ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই সম্ভাব্য বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

এই কূটনৈতিক তৎপরতার সময়েই ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন এবং আলোচনায় অগ্রগতির দাবি করেন। তবে এ দাবির সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

এদিকে তুরস্ক ও মিসরও সমান্তরালভাবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, যাতে অন্তত স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি হয়।

তবে ইরান সরাসরি কোনো আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্ধুত্বপূর্ণ কিছু দেশের মাধ্যমে বার্তা আদান প্রদান হলেও মূল অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার কাঠামো তৈরি হয়নি। চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক সানাম ভাকিল বলেন, বিভিন্ন দেশ চেষ্টা চালালেও সংঘাত থামানোর সম্ভাবনা এখনো কম।

পাকিস্তান কেন গ্রহণযোগ্য

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান ও দুই পক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে এটি একটি গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে। দেশটিতে কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নেই এবং এখন পর্যন্ত ইরানের হামলার লক্ষ্যও হয়নি।

এ ছাড়া পাকিস্তানে শিয়া মুসলমানদের বড় জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা।

তবে সংঘাতের প্রভাব থেকে পাকিস্তানও পুরোপুরি মুক্ত নয়। জ্বালানি আমদানির জন্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে দেশটির অর্থনীতিও চাপে পড়তে পারে।

সূত্রঃ ফিনান্সিয়াল টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights