নিজ ঘরে ফিরবে কি সেই ট্রফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২৩ বছরের আগের ঘটনা। তারপরও সেই মধুর দৃশ্য এখনো চোখে ভাসে। ২০০৩ সালে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ফাইনালে মালদ্বীপকে পরাজিত করেছিলেন আমিনুল হকরা। ম্যাচ শেষে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন চ্যাম্পিয়নের ট্রফি তুলে দিচ্ছিলেন তখন স্টেডিয়ামজুড়ে সে কি উল্লাস। এটিই ছিল প্রথম ও বাংলাদেশের শেষ শিরোপা। এরপর ঢাকা বা বাইরে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ সাফ ফুটবলে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু হারানো ট্রফি আর উদ্ধার করা যায়নি। এমনকি সেমিফাইনালও খেলতে ভুলে গিয়েছিল।

২০১৮ সালে ঢাকায় শেষবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আট বছর পর আবার নিজ ঘরে জামালরা খেলবেন দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপখ্যাত সাফ ফুটবল। কী করবে বাংলাদেশ? দেশে জেতা হারানো ট্রফি কি উদ্ধার করবে দেশেই। খুব বেশি না হলেও ফুটবলে বাংলাদেশের মান যে বেড়েছে এ নিয়ে সংশয় নেই। হামজা, সামিত, ফাহমিদুল, জায়ানদের মতো প্রবাসীরা জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার পর বেহাল দশাটা কেটেছে। সত্যি বলতে কি হামজারা আছেন বলেই সবাই সাফ জেতার ব্যাপারে আশাবাদী।

বাস্তবে তা কি সম্ভব? আসলে সাফে যারা খেলে তাদের শক্তি এমন আহামরি নয় যে, বাংলাদেশ পারবেই না। এটাই বরং আশ্চর্য বাংলাদেশ মাত্র একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ভারত তো ধরাছোঁয়ার বাইরে নয়, তারপরও তারাই বেশি চ্যাম্পিয়ন। মালদ্বীপও তো ডেঞ্জার নয়। তাহলে এবার আশা করা যেতেই পারে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নের। হেড কোচ থমাস ডুলি বা তারকা ডিফেন্ডার তপু বর্মণ বলেই দিয়েছেন নভেম্বরে চ্যাম্পিয়ন হতেই বাংলাদেশ নামবে। তপু আবার এটাও বলেছেন ফাইনালে ভারতকে হারিয়েই ট্রফি জিততে চান। বিশ্বকাপে যেমন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার নামটি বেশি উচ্চারিত হয়। সাফে আবার বাংলাদেশ ও ভারত। হয়তো তপু সে কারণেই ভারতকে হারানোর কথা বলেছেন। কথা হচ্ছে তপু কি জানেন যাদের শিরোপার রেসে রাখা হয় না সেই শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মান এখন কেমন? বাংলাদেশের বাহাদুরি তো মূলত প্রবাসীদের ঘিরেই। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান বিদেশে খেলা তাদের বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্ত করে ফুটবলের চেহারাটা বদলে দিয়েছে। কিছুদিন আগে মালদ্বীপে চার জাতি টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাকিস্তান।

ভারত তো সাফে বরাবরই ফেবারিট। প্রবাসীদের এনে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান এখন ছন্দময় খেলা খেলছে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপিং ও ফিকশ্চার এখনো হয়নি। নেপাল নিষিদ্ধ থাকায় সাফে অংশ নেওয়ার কথা নয়। সিডিউল ঘোষণার আগে নিষেধাজ্ঞা যদি প্রত্যাহার হয় তাদেরও নাম গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত হবে। গত সাফের মতো যদি মধ্যপ্রাচ্যের দলগুলো অংশ নেয় তাহলে তো হামজাদের চ্যালেঞ্জ আরও বেড়ে যাবে। সুতরাং শুধু ভারত নয়, এবার প্রতিটি দলই শক্তিশালী। সে ক্ষেত্রে গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউটে আসাটা কঠিন হবে। মুখে বলব ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হব, তা বলাটা সত্যিই বেমানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights