পড়ে আছে ১২৫ কোটির ‘স্বপ্নের’ ভবন
রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম
১০ তলার কারুকার্যময় ভবন। দূর থেকে দেখলে মনে হয় বিশ্বের মানচিত্র আঁকা গ্লোব। আর এটি তৈরি করতে খরচ হয়েছিল ১২৫ কোটি টাকা। কিন্তু পাঁচ বছর ধরে এটি অলস আর অবহেলায় পড়ে আছে। এটি দেশের প্রথম ক্যাম্পাসভিত্তিক বিজনেস ইনকিউবেটর। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) গড়ে তোলা ‘আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর চুয়েট’ এর চিত্র এটি। এটি প্রতিষ্ঠায় লক্ষ্য ছিল- বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উদ্ভাবন ও গবেষণা কার্যক্রমকে একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেমের মধ্যে নিয়ে আসা এবং গ্র্যাজুয়েটদের উদ্ভাবনী ধারণাকে সফল ব্যবসায়িক উদ্যোগ বা স্টার্টআপে রূপান্তর করা। সবাবেশ ঘটবে উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের। কিন্তু কাগজেকলমে এই পরিকল্পনার প্রত্যাশিত সুফল মিলেনি।
৩ দশমিক ৭ একর জমির ওপর ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় আইটি বিজনেস সেন্টাটি। ২০২২ সালের ৬ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলেও প্রত্যাশিত সফলতার আলোর মুখ দেখেনি। বিশাল কমপ্লেক্সের বড় অংশই এখনো অব্যবহৃত অবস্থায় অলস পড়ে আছে। ইনকিউবেটরের বিভিন্ন স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণে নেই প্রয়োজনীয় জনবল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শহর থেকে দূরে, বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহ, জনবলসংকট, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব ও সঠিক পরিকল্পনার দুর্বলতায় এটি আলোর মুখ দেখেনি। তবে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টি, তথ্য-প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল তৈরি, সফটওয়্যার তৈরির লক্ষ্যকে সামনে চুয়েট আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর নির্মিত হয়। এটি নতুন ব্যবসার জন্য নির্ধারিত এবং প্রযুক্তিগতভাবে সজ্জিত ডেডিকেটেড ওয়ার্কস্টেশন। আইডিয়া আদান-প্রদানের জন্য কোলাবোরেটিভ জোন ও ব্রেইনস্ট্রর্মিং জোন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রথম ইনকিউবেটর। কিন্তু এটি এখনো হাইটেক পার্কের অধীনে। চুয়েটকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি, তাই কার্যকর হয়নি। এটি সত্য, আইকনিক প্রকল্পটি বড় অবদান রাখতে সক্ষম। খুব শিগগিরই এটি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, চুয়েটের আইটি বিজনেস ইনকিউবেটির আছে একটি ১০ তলা ইনকিউবেশন ভবন, একটি ছয় তলা মাল্টিপারপাস ভবন এবং নারী-পুরুষদের জন্য পৃথক দুটি চার তলা ডরমিটরি। ইনকিউবেশন ভবনের মধ্যে আছে- স্টার্টআপ জোন, আইডিয়া বা ইনোভেশন জোন, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিক কোলাবরেশন জোন, ব্রেইনস্ট্রর্মিং জোন, ই-লাইব্রেরি, ডেটা সেন্টার, রিসার্চ ল্যাব, প্রদর্শনী সেন্টার, ভিডিও কনফারেন্সিং কক্ষ ও সভা কক্ষ। এর বাইরে ব্যাংক ও আইটি ফার্মের জন্য পৃথক কর্নার, অত্যাধুনিক সাইবার ক্যাফে, ফুড কোর্ট, ক্যাফেটেরিয়া, রিক্রিয়েশন জোন, মেকার স্পেস, ডিসপ্লে জোন, মিডিয়া কাভারেজ জোন, নিজস্ব পার্কিংসুবিধা রয়েছে ইনকিউবেশন ভবনে। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ-গবেষণা কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য ১০টি অত্যাধুনিক ল্যাবও আছে। আছে রোবোকার, ডিলিজিট, সিটিও টর্ক। ইনকিউবেশন ভবনের পাঁচটি ফ্লোর আইটি কোম্পানিকে ভাড়ায় বরাদ্দ দেয়ার পরিকল্পনা থাকলেও মাত্র তিনটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল। এর মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে চলে গেছে। তাছাড়া, ইনকিউবেটর চালুর পর পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অফিস বরাদ্দ নিলেও কার্যক্রম শুরু না করেই তারা ছেড়ে চলে গেছে। ইনকিউবেটরের প্রবেশপথে কেবল একজন নিরাপত্তাকর্মী নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন। এ ব্যাপারে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, চুয়েটের বিজনেস ইনকিউবেটর নিয়ে ঢাকা থেকে একটি অডিট টিম সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
