মানুষ আগের চেয়ে কম কথা বলছে : গবেষণা
অনলাইন ভার্সন
আমরা কি হঠাৎ করেই গভীর আড্ডা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি? ঠিক তা নয়। তবে দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট কথোপকথনগুলো আমাদের অজান্তেই হারিয়ে যাচ্ছে। আর এর ফলেই আগের চেয়ে অনেক কম কথা বলছে মানুষ।
সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে মানুষের প্রতিদিন কথা বলার পরিমাণ বছরে গড়ে ৩৩৮টি শব্দ করে কমেছে। ১৫ বছরে সার্বিকভাবে মানুষের কথা বলা কমেছে বিশাল ২৮ শতাংশ! আগে মানুষ দিনে গড়ে ১৫,৯০০ শব্দ উচ্চারণ করত, যা কমে এখন দাঁড়িয়েছে ১২,৭০০ শব্দে।
অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাথিয়াস মেহলের গবেষক দল ২২টি গবেষণার তথ্য মেলাতে গিয়ে ঘটনাক্রমে এই চমকপ্রদ বিষয়টি আবিষ্কার করেন। প্রতিবেদনটি ‘পার্সপেক্টিভস অন সাইকোলজিক্যাল সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? স্মার্টফোন বা সোশ্যাল মিডিয়াকে আংশিক দায়ী করা হলেও মূল কারণটি হলো আমাদের চারপাশের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি। সেলফ-চেকআউট, মোবাইল অ্যাপে কেনাকাটা কিংবা জিপিএস-এর কারণে দোকানে বা রাস্তায় অপরিচিতদের সঙ্গে আমাদের ছোট ছোট কুশলবিনিময়গুলো পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কথা কম বলার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি হলেও বয়স্করাও এতে পিছিয়ে নেই।
অনেকেই ভাবতে পারেন, মুখে না বললেও তো আমরা মুঠোফোনে প্রচুর টেক্সট করছি। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীদের মতে, লিখিত বার্তা কখনোই কণ্ঠস্বরের আবেগ, উষ্ণতা বা হাসির বিকল্প হতে পারে না। ছোট ছোট এই স্বতঃস্ফূর্ত কথোপকথনগুলো কমে যাওয়ার কারণেই বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে একাকিত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ক্রমশ মারাত্মক আকার ধারণ করছে।
