পর্ষদ ভাঙার ক্ষমতা পাচ্ছে আইডিআরএ
শাহেদ আলী ইরশাদ
সংকটে থাকা বিমা কোম্পানি পরিচালনায় সরাসরি হস্তক্ষেপের ক্ষমতা চেয়ে বহুল আলোচিত একটি খসড়া অধ্যাদেশ অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’। প্রস্তাবিত এ অধ্যাদেশ কার্যকর হলে গুরুতর শাসনগত ব্যর্থতা চিহ্নিত হওয়া বিমাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে হস্তক্ষেপ, পর্ষদ পুনর্গঠন এবং প্রয়োজনে প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে সংস্থাটি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘ইনস্যুরার রেজোলিউশন অধ্যাদেশ-২০২৫’ শীর্ষক খসড়া আইনটি সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এটি পর্যালোচনা করবে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্যাংক খাতের মতো বিমা খাতেও কাঠামোগত সংস্কার আনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় কার্যকারিতা হারানো বিমা কোম্পানিগুলোর একীভূতকরণ অথবা অবসায়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচটি দুর্বল ইসলামি ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়ায় এ অধ্যাদেশকে একই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে খসড়া আইনটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটির তত্ত্বাবধানে ৮২টি জীবন বিমা ও সাধারণ বিমা কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সংকটে থাকা বিমা কোম্পানিতে প্রশাসক নিয়োগ, পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা এবং কার্যকর পোর্টফোলিও নতুনভাবে গঠিত ‘ব্রিজ ইনস্যুরার’-এ হস্তান্তরের ক্ষমতা পাবে আইডিআরএ। একই সঙ্গে অননুমোদিত উপায়ে আত্মসাৎ করা সম্পদ উদ্ধারের ক্ষমতাও দেওয়া হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে। অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে আইডিআরএর অধীনে একটি পৃথক ‘রেজোলিউশন সেল’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া রেজোলিউশন কার্যক্রম সহায়তায় সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের অর্থায়নে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ), এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইবিআরডি) এবং ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) অংশ নিতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বিমা গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং দেশের বিমা খাতে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুণ্ন হওয়া আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা। বিশেষ করে বেশ কয়েকটি জীবন বিমা কোম্পানির বিরুদ্ধে সময়মতো মেয়াদপূর্তির দাবি পরিশোধ না করার অভিযোগ থাকায় জন আস্থার সংকট তীব্র হয়েছে। যদিও সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলো আর্থিকভাবে তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করা হয়, তবু প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের আওতায় জীবন ও সাধারণ উভয় খাতই অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা, অস্বচ্ছ ব্যবসায়ের সংস্কৃতি ও দুর্বল শাসনব্যবস্থার কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বিমা খাতে অনুপ্রবেশ হার এখনো অন্যতম নিম্নস্তরে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
