পশ্চিম তীরের কাদিমে ২০ বছর পর আবারও ফিরল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা, বাড়ছে উদ্বেগ
অনলাইন ডেস্ক
দুই দশক আগে খালি করে দেওয়া বিতর্কিত কাদিম বসতিতে পুনঃরায় ফিরে এসেছে একদল নতুন ইসরায়েলি পরিবার। দখলীকৃত পশ্চিম তীরের জিনিন শহরের কাছে অবস্থিত এই এলাকায় ইসরায়েলের কট্টর জাতীয়তাবাদী সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এ প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার তেল আবিব থেকে আসা প্রায় ৩০টি প্রতিনিধি পরিবার সেনা পাহারায় ও নিজেদের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে এই এলাকায় প্রবেশ করে। গাড়িভর্তি আসবাবপত্র, বিছানাপত্র এবং ঘরবাড়ি তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে তারা এই পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান নিতে শুরু করেছে। ২০০৫ সালের পর এই প্রথম কাদিম বসতিতে এভাবে ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের থাকার ব্যবস্থা করা হলো।
২০০৫ সালে তৎকালীন ইসরায়েল সরকার একতরফা পরিকল্পনার অধীনে গাজা উপত্যকার সমস্ত বসতি সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি উত্তর পশ্চিম তীরের কাদিমসহ আরও তিনটি বসতি পুরোপুরি তুলে নেয়। বিচ্ছিন্ন ও নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল বিবেচনা করে সে সময় এসব বসতি থেকে সেনা ও সাধারণ ইসরায়েলিদের প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এ এলাকায় ইসরায়েলিদের প্রবেশের ওপর যে আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল, বর্তমান ডানপন্থী সরকার আইন সংশোধন করে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। ফলে এর আগেই সানুর, গালিম ও হোমেস নামের বাকি তিনটি এলাকায় বসতি স্থাপন কার্যক্রম আবার চালু হয় এবং কাদিম ছিল সেই তালিকার সর্বশেষ স্থান, যা আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু করা হলো।
কাদিম বসতি পুনরায় চালুর এই অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি দেখা যায়। দেশটির কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ, বিচারমন্ত্রী এবং নেসেটের (পার্লামেন্ট) স্পিকার এক জাতীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একে উত্তর সামারিয়ায় তাদের ঐতিহাসিক পুনরাগমন বলে আখ্যায়িত করেন। আঞ্চলিক বসতি কাউন্সিলের প্রধান ইউসি দাগান অনুষ্ঠানে বলেন, এই সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাদিমে তাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা গেছে এবং তারা আশা প্রকাশ করেন যে কোনো এক সময় গাজাতেও একইভাবে ইসরায়েলি বসতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এদিকে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের এই প্রত্যাবর্তনে গভীর আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা। জেনিনের পার্শ্ববর্তী কৃষি জমিতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা বহু ফিলিস্তিনি পরিবার এখন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকিত। বছরের পর বছর ধরে নিজ জমিতে চাষাবাদ করে আসা প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, বহু বছর আগে প্রথমবার যখন এই কাদিম তৈরি হয়েছিল তখন পরিস্থিতি অন্যরকম ছিল, তবে এখন প্রতিনিয়ত হুমকি ও উচ্ছেদের ভয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। ইতিমধ্যেই স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ধ্বংস এবং কৃষকদের মূল জমি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের পর নিজ ভিটেমাটি হারানো অনেক পরিবার এখন আর নতুন করে বাস্তুচ্যুত হতে চান না, তবে চারপাশের এমন আগ্রাসী পরিস্থিতিতে তাদের দিন কাটছে এক চরম ভীতি ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে।
২০২২ সালের শেষের দিকে বর্তমান ইসরায়েল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পশ্চিম তীর জুড়ে প্রায় ১০০টিরও বেশি নতুন বসতি অনুমোদনের উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দখলীকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ইসরায়েলের নির্মিত সকল বসতি এবং অননুমোদিত আউটপোস্ট সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে বিবেচিত, তবুও সরকারের সহায়তায় পশ্চিম তীরে এই আবাসন বিস্তার প্রকল্প দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
সূত্র: বিবিসি
