পাঁচ মাস পর আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় জিরা আমদানি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে জিরা আমদানি শুরু হয়েছে।
সোমবার দুপুরে জিরা নিয়ে ভারতীয় একটি ট্রাক বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগে রবিবার বিকালে ভারতীয় ট্রাক বোঝাই জিরা স্থলবন্দরে এসে পৌঁছায়।
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন সূত্র জানায়, মাদারীপুরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স মদিনা ট্রেডার্স আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ৩ মেট্রিক টন জিরা আমদানি করে। ভারতীয় একটি ট্রাকে ১০০টি বস্তায় করে এই জিরা আমদানি করা হয়। প্রতি কেজি জিরা সাড়ে ৩ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি টাকায় ৪৩০ টাকা ৫০ পয়সা।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জিরা আমদানির মধ্য দিয়ে আবারও আমদানি বাণিজ্যে গতি ফিরবে বলে মনে করছেন আখাউড়া স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস ও ব্যবসায়ীরা।
আখাউড়া স্থলবন্দরে জিরা আমদানি কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট দায়িত্বে থাকা মেসার্স শোয়েব ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী রাজীব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, নতুন (২০২৬-২০২৭) অর্থ বছরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বিভিন্ন পণ্য আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এরই অংশ হিসেবে জিরা আমদানি করা হয়েছে।
আখাউড়া স্থলবন্দর ওয়্যারহাউজ (গুদাম) সুপারভাইজার মো. মিশু খান জানান, পাঁচ মাস পর আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে জিরা আমদানি নতুন অর্থ বছরে আমদানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। এর আগে গত অর্থবছরের জানুয়ারি মাসে ৩৬ মেট্রিক টন জিরা আমদানি করা হয়েছিল। চাহিদা অনুযায়ী বাজার মূল্য পাওয়া গেলে জিরা আমদানি বাড়বে বলেও জানান তিনি।
আখাউড়া স্থলবন্দর সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মেহদী হাসান বলেন, নিষিদ্ধ পণ্য ব্যতীত সব পণ্য আমদানির কার্যক্রম শুরু হলে বন্দরে কর্মসংস্থান বাড়বে।
আখাউড়া কাস্টমস রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমদানি বাণিজ্য বাড়লে ব্যবসায়ী ও সরকার উভয়ই লাভবান হবে। বন্দরটি আরও গতিশীল হবে। সরকার রাজস্ব পাবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে পোর্ট অব কল হিসাবে আখাউড়া স্থলবন্দরের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১০ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তবে রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক থাকলেও আমদানি বাণিজ্য তলানিতে ঠেকেছে।
