পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রী আগ্রহী: মীর হেলাল

অনলাইন প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।

তিনি বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে পরিবেশবান্ধব ও কৃষিবান্ধব অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে পাহাড়ের মানুষের জীবনমানের আমূল পরিবর্তনে সরকারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি পর্যালোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে পাহাড়কে কৃষিবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার বড় সুযোগ রয়েছে। তবে সমাজ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় পার্বত্য এলাকায় তামাক চাষ বন্ধ করতে হবে। এর পরিবর্তে পাহাড়ি কৃষকদের ইক্ষু, তুলা, কাজু বাদাম ও কফি চাষে উৎসাহিত করতে হবে।

কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পার্বত্য অঞ্চলে অর্গানিক ফলের বাগান বাড়ানোর পাশাপাশি রাম্বুটান চাষ সম্প্রসারণের কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ এবং ড্রাই ফ্রুটস প্রসেসিংয়ের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের সুপেয় পানির সংকট দূর করতেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

ভূমি ব্যবস্থাপনা ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি অধিগ্রহণের কাজও সময়মতো সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

অধিগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত পরিবারগুলোকে সরকারি খাসজমিতে যথাযথভাবে পুনর্বাসনের কথা জানান তিনি। ভূমির মালিকানা নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে প্রথাগত বিধি অনুযায়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করে তা সমাধান করার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

শিক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের বিষয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে। পাড়াকেন্দ্রের মেয়েদের জন্য বিশেষ শিক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সেন্ট্রাল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দ্রুত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের জুলাই মাসের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি পর্যালোচনা উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পাহাড়ি মাটির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি কাজু বাদাম, কফি, মাশরুম, লটকন চাষ এবং ভেড়া-মেষ পালনের মাধ্যমে পাহাড়ি অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights