পিংক বাসে স্বস্তি নারীদের
সাইফ ইমন
গণপরিবহনের ভিড়, ধাক্কাধাক্কি কিংবা অনাকাক্সিক্ষত হয়রানির শঙ্কা কাটিয়ে নারীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে ‘পিংক বাস’। বিশেষ এ সার্ভিসটি গত মঙ্গলবার চালুর পর থেকেই আগ্রহ নিয়ে বাসে চড়তে দেখা যাচ্ছে নারীদের। গতকাল সরেজমিন ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যায়, নারীরা স্বস্তি নিয়ে এই বিশেষ বাসে চড়ছেন। একই সঙ্গে যাত্রীদের কেউ কেউ এ সার্ভিসের বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নারীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতেই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) উদ্যোগে চালু হয়েছে ‘পিংক বাস সার্ভিস’। বাসগুলোর চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নারীরাই। গতকাল মতিঝিল এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, পিংক রঙের বাসে নারী যাত্রীরা বেশ আগ্রহ নিয়ে উঠছেন। সাধারণ বাসের তুলনায় এখানে পরিবেশও কিছুটা স্বস্তিদায়ক বলে জানান যাত্রীরা। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের কাছে এই সেবা নিরাপদ যাতায়াতের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। পিংক বাসে করে মতিঝিল থেকে বাসার উদ্দেশে রওনা দেওয়া একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আফসানা রূপা বলেন, ‘নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। তবে বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো উচিত। আমাদের দাবি, এই সার্ভিস যেন বন্ধ না হয়। রাজধানীর আরও বেশি রাস্তায় পিংক বাস দেখতে চাই।’ গণপরিবহনে নারীদের নানা ধরনের বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয়। আলাদা বাস সার্ভিস চালু হলে নিরাপত্তার পাশাপাশি স্বস্তিও বাড়বে বলে যোগ করেন তিনি। রাজধানীর প্রেস ক্লাবের সামনে এক কর্মজীবী নারী পিংক বাসের উদ্দেশে দৌড়াতে দৌড়াতেই বলেন, ‘আমি ফারজানা হক, সচিবালয়ে কাজ করি। অফিস থেকে নেমেই দেখতে পেলাম বাসটি চলে যাচ্ছে, তাই ধরার চেষ্টা করছি। এই বাস আরও বেশি করে দেওয়া উচিত। কারণ একটা বাস মিস করলে এখন আর কোনো বাস পাওয়া যাবে না।’ সরেজমিন রাজধানীর নারী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায়, পিংক বাস নিয়ে তাদের প্রত্যাশা অনেক। তবে শুধু বাস চালু করলেই হবে না, নিয়মিত ও পর্যাপ্ত সংখ্যায় বাস পরিচালনা, নির্ধারিত সময়ে চলাচল এবং রুটের পরিধি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা। মিরপুর রুটের যাত্রী স্নেহা রোজারিও বলেন, বিআরটিসির এ উদ্যোগ একদিকে যেমন নারীদের গণপরিবহনে নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে পারে, অন্যদিকে পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থান ও অংশগ্রহণের নতুন সুযোগও তৈরি করবে। ফলে পিংক বাস শুধু একটি পরিবহন সেবা নয়, রাজধানীর গণপরিবহনে নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিআরটিসি জানিয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুটে পর্যায়ক্রমে পিংক বাস সার্ভিস চালু করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুনবাজার (কোকাকোলা)-মতিঝিল, তালতলা-মতিঝিল, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-মতিঝিল, মিরপুর-১০-মতিঝিল, মিরপুর-১২-মতিঝিল, আবদুল্লাহপুর-কোয়ার্টার-জিপিও, মিরপুর-মতিঝিল এবং মোহাম্মদপুর-মতিঝিল রুটে এসব বাস চলাচল করবে। পাশাপাশি গাজীপুর-বিমানবন্দর রুটেও বিশেষ বাস পরিচালনার কথা রয়েছে।
নতুনবাজার থেকে মতিঝিলগামী বাস কোকাকোলা, নতুনবাজার, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে পৌঁছাবে। অন্য রুটের বাসগুলোও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা সংযুক্ত করবে। রাজধানীর বাইরেও এ উদ্যোগের বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে। বগুড়ায় শেরপুর-মাটিডালী রুটে দুটি এবং চট্টগ্রামে কালুরঘাট-পতেঙ্গা রুটে দুটি বাস চালুর কথা রয়েছে। চট্টগ্রামের বাসগুলো কালুরঘাট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড় ও লালখান বাজার হয়ে চলাচল করবে। মতিঝিল-মিরপুর রুটের পিংক বাসের চালক খাদিজা আক্তার বলেন, ‘সকাল ৭টায় একটি ট্রিপ নিয়ে যাই, আবার ফিরে আসি। বিকাল ৪টায় আরেকবার যাই এবং ফিরে আসি। শুক্র ও শনিবার এই সার্ভিস বন্ধ থাকবে।’
