ফাইনালের আগে ইয়ামালকে নিয়ে সুখবর

অনলাইন ডেস্ক
দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপার লক্ষ্যে বিশ্বকাপের ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন। হাইভোল্টেজ এ ম্যাচের আগে বড় সুখবর দিলেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। মেসিদের বিপক্ষে মাঠে নামতে লামিন ইয়ামাল পুরোপুরি সুস্থ বলে জানিয়েছেন।

সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের ২-০ ব্যবধানের জয়ের পর ১৯ বছর বয়সী ইয়ামালকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা গিয়েছিল। এমনকি তিনি দলের অনুশীলন সেশনে অংশ নিতে পারেননি। সিনহুয়া-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, দে লা ফুয়েন্তে বলেছেন, সে বেশ জোরে আঘাত পেয়েছিল, যা ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবেই আমরা তাকে কিছুটা বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আজ অনুশীলনে সে ঠিকঠাক ছিল। সতীর্থদের সঙ্গে সে অনুশীলন করেছে। সে এখন সুস্থ এবং সেরা অবস্থায় আছে।

দে লা ফুয়েন্তে জানান, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে রবিবারের ম্যাচের আগে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা বা চোট ধরা পড়ার শেষ সুযোগ হবে চূড়ান্ত অনুশীলন সেশনের সময়।

তিনি বলেন, এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তবে তা কাটিয়ে ওঠার মতো সময় আর পাওয়া যাবে না। ২০১০ সালে শিরোপা জয়ের পর এটিই হতে যাচ্ছে স্পেনের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় এবং সব মিলিয়ে চতুর্থ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে। এর আগে তারা ১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে এবং মাত্র একটি গোল হজম করে ফাইনালে ওঠা স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে মনে করেন, উভয় দলই যোগ্যতার ভিত্তিতে ফাইনালে উঠেছে এবং তাদের খেলার ধরনে বেশ মিল রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা দুর্দান্ত একটি ম্যাচ দেখতে যাচ্ছি। আমার মতে, দুটিই অসাধারণ দল। মনোভাব ও প্রতিভার দিক থেকে অনেক ক্ষেত্রেই তারা একে অপরের অনুরূপ। আমার বিশ্বাস, স্পেন ও আর্জেন্টিনা উভয় দলেরই এমন গেম প্ল্যান থাকবে যেখানে অন্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে প্রাধান্য পাবে প্রতিভা ও সুন্দর ফুটবল।

ফাইনালে ওঠার পথে দল দুটির যাত্রাপথ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্পেন যেখানে মূলত বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং জমাট রক্ষণভাগের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, সেখানে আর্জেন্টিনা তাদের চারটি নকআউট ম্যাচের প্রতিটিতেই জয়ের জন্য শেষ মুহূর্তের গোলের ওপর নির্ভর করেছে।দে লা ফুয়েন্তে বলেন, লিওনেল স্কালোনির দলের জন্য কোনো ব্যবধানই (স্কোরলাইন) অসম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও তারা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। তবে আমাদের জাতীয় দলের ইতিহাসেও এমন পরিস্থিতির নজির রয়েছে। শীর্ষস্থানীয় দলগুলোর ক্ষেত্রে এমন মানসিকতার প্রয়োজন হয়। যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব সমানে-সমান হয়, তখন ছোটখাটো বিষয়গুলোই পার্থক্য গড়ে দেয়।

দে লা ফুয়েন্তে স্বীকার করেছেন, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ‘ম্যান-মার্ক’ করার কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না। অথচ এই টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার করা ১৯টি গোলের মধ্যে ১২টিতেই মেসির সরাসরি অবদান রয়েছে।

৬৫ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, আমরা বার্সেলোনায় গিয়েছিলাম এবং মেসি নামের এক কিশোর সম্পর্কে অনেক ভালো কথা শুনেছিলাম। তাই তাকে ‘ম্যান-টু-ম্যান’ মার্কিং বা ব্যক্তিগতভাবে আটকে রাখার জন্য আমরা একজন খেলোয়াড়কে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। কিন্তু ৭০তম মিনিটে আমি সেই ডিফেন্ডারকে তুলে নিই, কারণ তিনি একটি হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন। তখন ম্যাচের স্কোর ছিল ০-০, আর এরপর মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে মেসি আমাদের বিপক্ষে চারটি গোল করে বসেন। তাই এবার আমরা আর ‘ম্যান-টু-ম্যান’ মার্কিংয়ের কৌশল অবলম্বন করব না। আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে এবং বিশেষ নজর দিতে হবে।

দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ইয়ামালের উচিত নয় মেসির অনুকরণ করার চেষ্টা করা; বরং তার নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলা উচিত। তিনি বলেন, নিজের মনোভাব ও খেলার ধরনের কারণে মেসি তরুণ খেলোয়াড়দের কাছে এক আদর্শ। লামিনকে তার নিজের সত্তা বজায় রাখতে হবে। তাকে সহায়তা করার সর্বোত্তম উপায় হলো তাকে তার মতো করেই খেলতে ও বেড়ে উঠতে দেওয়া, কারণ তার মধ্যে দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights