ফুটবলে পথ দেখাল এবিজি

ক্রীড়া প্রতিবেদক
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলে বাংলাদেশ দলে প্রবাসীর ছড়াছড়ি। চূড়ান্ত স্কোয়াডে ১১ জন সুযোগ পেয়েছেন। এতে অনেকেই সন্তুষ্ট। কেননা প্রবাসী থাকায় বাংলাদেশের শক্তি বেড়েছে। আবার এত প্রবাসী থাকায় সমালোচনাও হচ্ছে। কারণ সুযোগ না দেওয়ায় স্থানীয়দের জাতীয় দলে ফেরাটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সাবেক তারকা ফুটবলাররাও এতে বিরক্ত। তাঁদের কথা, লোকালদের গুরুত্ব না দেওয়ায় অনেকে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। একজন ফুটবলারের মূল লক্ষ্য থাকে জাতীয় দলের জার্সি পরে মাঠে নামা। প্রবাসীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে তারা ধরেই নিতে পারে যতই ভালো খেলি না কেন জাতীয় দলের জন্য প্রবাসীদের দরজাই খোলা থাকবে।

প্রবাসীদের গুরুত্ব দেওয়া হোক বা না হোক, এটা ঠিক দেশে সেভাবে নতুন ফুটবলারের সন্ধান মিলছে না। পাইপলাইনটা অচলই বলা যায়। একসময় বিভিন্ন জেলায় লিগ খেলে প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের দেখা মিলেছিল। এ ক্ষেত্রে বাদল রায়, সালাম মুর্শেদী, আসলাম, রুমি অনেকের নাম উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে। এখন সে পথ পুরোপুরি বন্ধ বলা যায়। অধিকাংশ জেলাতেই দীর্ঘদিন ধরে ফুটবলের দেখা নেই। বাফুফে এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না। ফুটবলার খুঁজে পেতে সারা দেশে খেলা হওয়াটা জরুরি, অথচ ফুটবল ফেডারেশনের ভাবনায় তা নেই।

বাফুফে বা অন্যরা এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকলেও আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ঠিকই এর যথার্থতা উপলব্ধি করেছে। দেশের ফুটবল বাঁচিয়ে রাখতে হলে দরকার মানসম্পন্ন খেলোয়াড় বা আগামীর তারকা। প্রবাসীরা জাতীয় দলে খেলবে বলে ফুটবলের শিকড় নষ্ট করা যায় না। সেই চারা রোপণ করতে শুরু করেছে এবিজি। বসুন্ধরা দেশের ফুটবল এগিয়ে নিতে কাজ করছে অনেক আগে থেকেই। নিজেদের দল বসুন্ধরা কিংস শুরু থেকেই সাফল্য পাচ্ছে। কিন্তু এবিজির চিন্তা শুধু নিজেদের দল নিয়ে নয়। তারা চায় ফুটবলের উন্নয়ন ও জাগরণ। আর এতেই দরকার নতুন নতুন ফুটবলার। পাইপলাইনই যখন অচল তখন সব পথই তো বন্ধ।

ফুটবলের এমন দুঃসময়ে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ বসে থাকে কীভাবে? এবিজির চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর উদ্যোগ নিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের মাঠে নামাতে। তাঁর চিন্তা পড়াশোনার পাশাপাশি ছেলেরা মাঠে থাকুক। এতে আগামীর তারকার দেখা মিলবে। যারা পরবর্তী সময়ে দেশের হয়েও মাঠ কাঁপাতে পারবে। এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের প্রথম আয়োজন এতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও জমজমাট ছিল যে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার দিতে আসা জাতীয় দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড়রা এবিজিকে শুধু ধন্যবাদই জানাননি, সবাই অভিন্ন সুরে বলেছেন, এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের ফুটবল টুর্নামেন্ট অন্যদেরও পথ দেখাবে। এমন আয়োজন নিয়মিত হলে অবশ্যই এখান থেকে ভালোমানের খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে।

প্রখ্যাত ফুটবলার শেখ মো. আসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে বিশ্বমানের স্পোর্টস কমপ্লেক্স হবে আমি তা স্বপ্নেও ভাবিনি। এবিজি স্পোর্টস সিটিই প্রমাণ দিল বাংলাদেশও পারে। সত্যিই আমি এবিজি স্পোর্টস সিটি দেখে অভিভূত। এ এক রাজধানীর ভিতর এক খেলার নগর। এবিজি শুধু স্পোর্টস সিটি গড়েই থেমে থাকেনি, ক্রীড়ার উন্নয়নেও ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের ফুটবল আসর আমি দেখেছি। তরুণদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা না করে পারছি না। টুর্নামেন্টে বেশ কয়েকজনের খেলা দেখে আমি চ্যালেঞ্জ জানাতে পারি-এরা দেশের শীর্ষ দলে খেলার যোগ্য। অন্যরা যখন নীরব তখন এবিজি ফুটবলে নতুন এক পথ দেখাল। আমার বিশ্বাস প্রতি বছর এ আয়োজন করে ফুটবলারের সংকট কাটিয়ে তুলবে এবিজি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights