বগুড়ায় চার অধিনায়ককে নিয়ে এনসিএল টি-২০ ট্রফি উন্মোচন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ক্রিকেট উৎসবে মেতে উঠছে বগুড়া। জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-২০ টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসর শুরু হচ্ছে শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকে। এর আগে শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চার বিভাগীয় দলের অধিনায়ককে সঙ্গে নিয়ে ট্রফি উন্মোচন করা হয়।

ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিভাগের অধিনায়ক মাহিদুল অঙ্কন, বরিশালের সালমান হোসাইন ইমন, সিলেটের জাকির হাসান, রংপুর বিভাগের আকবর আলী। এছাড়াও স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আজ শনিবার থেকে শুরু হয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এনসিএল টি-২০ টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের ৬টি ম্যাচ। খেলা অনুষ্ঠিত হবে বগুড়ার ঐতিহাসিক শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে। এ উপলক্ষে স্টেডিয়াম জুড়ে চলছে সাজসাজ রব। গ্যালারি রঙ করা, সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা, এবং অনুশীলনের জন্য মানসম্মত উইকেট প্রস্তুত করেছে বিসিবি।

ভেন্যু ম্যানেজার জামিলুর রহমান জানান, ‘১৪ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। দেশের তারকা ক্রিকেটারদের একসঙ্গে দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকরা।’

বগুড়ার ক্রীড়ামোদী জনতা এই আয়োজনে বেশ উচ্ছ্বসিত। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ও সাংবাদিক প্রতিনিধি মমিনুর রশিদ সাইন বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে দীর্ঘদিন কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক খেলা হয়নি। এবার সেই ধারা ভাঙতে যাচ্ছে। দেশের সেরা ক্রিকেটারদের খেলতে দেখা যাবে এখানেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই ভবিষ্যতে বিপিএল ম্যাচ বগুড়ায় অনুষ্ঠিত হোক। সে লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।’

বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম শুধু একটি খেলার মাঠ নয়, এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক গর্বিত অংশ। ২০০৬ সালের পর আন্তর্জাতিক ম্যাচের আয়োজন হয়নি মাঠটিতে। এই মাঠেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ দল।

স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয় ১৯৬২ সালে, আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু ১৯৭০ সালে। পরে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন শেষে ২০০৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। প্রায় ২০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই মাঠ এখনো এশিয়ার অন্যতম সেরা উইকেটের গৌরব বহন করে।

মুশফিকুর রহিম, তামিম, তৌহিদ হৃদয়, খাদিজাতুল কোবরা, শারমিন সুলতানা, ঋতু মনিসহ অনেক ক্রিকেটারের উত্থানে ভূমিকা রয়েছে আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতি বিজড়িত এই স্টেডিয়ামের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights