বগুড়ায় চার বছরে ১৬৩৪ আত্মহত্যা

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া

বগুড়ায় আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। জেলায় চার বছরে ১ হাজার ৬৩৪টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। আত্মহননকারীর প্রায় অর্ধেকই নারী ও তরুণ প্রজন্মের। যাদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এ ছাড়া কয়েকজন কিশোরীও রয়েছে এ তালিকায়, যাদের বয়স ১৩ থেকে ১৮ বছর।

বগুড়া জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত জেলায় ১১৬ জন আত্মহত্যা করেছেন। জানুয়ারিতে ১৬, ফেব্রুয়ারিতে ২৭, মার্চে ২৯, এপ্রিলে ২৪ ও মে মাসে ২০ জন। তবে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায়। ২০২৫ সালে জেলায় ৪১১ জন আত্মহত্যা করলেও ২০২৪ সালে ৩৩৫ জন, ২০২৩ সালে ৩৮৭ জন ও ২০২২ সালে ৩৮৫ জন আত্মহত্যা করেন। সব মিলিয়ে ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত চার বছর পাঁচ মাসে বগুড়ায় ১ হাজার ৬৩৪ জন আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এর ২৫ শতাংশই নারী শিক্ষার্থী।

কেন বগুড়ায় আত্মহত্যাপ্রবণতা বাড়ছে? এ সম্পর্কে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু সায়েম বলেন, ‘আত্মহত্যা বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যা। প্রতি বছর নানান বয়সের মানুষ ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক সংকটের কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। আত্মহত্যার পেছনে প্রায়ই একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করে। আত্মহত্যার অন্যতম প্রধান কারণ হলো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, বিশেষ করে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, হতাশা ও অন্যান্য মানসিক রোগ। এ ছাড়া পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য সমস্যা, প্রেমে ব্যর্থতা, আর্থিক সংকট, বেকারত্ব, পরীক্ষা ও চাকরির চাপ, সামাজিক অপমান, বুলিং ও মাদকের অপব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক অসুস্থতা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতাও আত্মহত্যার কারণ হতে পারে।’ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল বগুড়ার মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মারুফুল হক বলেন, ‘আত্মহত্যা বা আত্মহনন হচ্ছে কোনো ব্যক্তির ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দেওয়া বা স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশের প্রক্রিয়াবিশেষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights