মাঠে ফিরে হাসলেন কাঁদলেন নেইমার

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অবশেষে ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারকে দেখা গেল। দেখা গেল কাঁটায় কাঁটায় ৯৮১ দিন পর। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর সর্বশেষ হলুদ জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন ম্যাজিক্যাল এই ফুটবলার। এরপর ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করতে করতে ক্লান্তিতে ফুটবল থেকে হারিয়ে যেতে বসেছিলেন। কিন্তু অদম্য মানসিকতার নেইমার ফিরেছেন রাজসিকভাবে। বিশ্বকাপে খেলছেন। লিওনেল মেসির ঘরের মাঠ ইন্টার মায়ামি স্টেডিয়ামে নেইমার গতকাল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জার্সি গায়ে মাঠে নামেন ৭৬ মিনিটে। তার মাঠে নামার স্মরণীয় মুহূর্তটিকে ফ্রেমবন্দি করতে মাঠে উপস্থিত ৬৫ হাজার দর্শকের মোবাইলের ক্যামেরা সাটার টিপেছে একসঙ্গে। নেইমারের রাজকীয় ফেরার ম্যাচের নায়ক ভিনিসাস। ম্যাচটিতে ব্রাজিল ৩-০ গোলে হারিয়েছে স্কটল্যান্ডকে। নেইমার দীর্ঘদিন পর মাঠে ফিরে আনন্দে হেসেছেন, আনন্দে কেঁদেছেন। বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে কোনো ফুটবলারের মাঠে ফেরার জন্য এমন আকুতিভরা প্রার্থনা আর কখনো দেখা যায়নি। যা দেখা গেছে নেইমারের জন্য। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবরের পর ইনজুরিতে ব্রাজিল দলে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছিলেন তিনি। ঘরোয়া ফুটবলে সান্তোসের পক্ষে খেললেও জাতীয় দলে খেলার মতো ফিট ছিলেন না। তারপরও কোচ কার্লোস আনচেলত্তি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তাকে দলভুক্ত করেন জাদুকরী ফুটবলের মুগ্ধতায়। তার অন্তর্ভুক্তিতে উৎসবের দেশে পরিণত হয়েছিল বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশটি। ফিট হতে না পারায় বিশ্বকাপে শুরুর দুই ম্যাচ খেলেননি। স্কটিশদের বিপক্ষে খেলবেন নিশ্চিত ছিল না। এরপর খেললেন এবং সেলেসাও সমর্থকদের মন জয় করেন। তিনি যখন মাঠে নামেন সতীর্থ ম্যাথিউস কুনহা দৌড়ে আনন্দে আলিঙ্গন করেন নেইমারকে। এতেই পরিষ্কার, নেইমার এখনো দলের প্রধান সেনাপতি। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের মাঠে নামার আনন্দে দলের সেরা পারফরমার ভিনিসাস বলেন, ‘আমাদের আইডলের প্রত্যাবর্তন।’

নেইমারকে ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফুটবলার থিয়েরি অঁরি বলেন, ‘নেইমারের মাঠে নামার মুহূর্তেই ম্যাচটা বদলে গেল। বিশ্বসেরা খেলোয়াড়রা এমনই। ম্যাচে নিজের প্রভাব রাখতে তাদের পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থাকার প্রয়োজন হয় না।’ কোচ আনচেলত্তি বলেন, ‘নেইমারের বয়স ৩৪ অথচ ফুটবল খেলার প্রতি তার তাড়না ও ভালোবাসা যেন এখনো যেকোনো কিশোরের মতোই।’ মাঠে ফিরে আপ্লুত নেইমার, ‘সত্যিই দারুণ এক কৃতজ্ঞতার মুহূর্ত। বিশ্বকাপে খেলা আর জাতীয় দলে ফিরে এই জার্সি গায়ে জড়ানোটাই ছিল আমার একমাত্র লক্ষ্য। আমার ভীষণ ভালো লাগে, ব্রাজিলের জাতীয় দলের জার্সিটা পরতে আমি মনেপ্রাণে ভালোবাসি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights