বগুড়ায় নিষিদ্ধ জালের দাপটে বিলুপ্তির পথে মাছ ধরার দাড়কি

বিশেষ প্রতিনিধি, বগুড়া
বগুড়ার গ্রামীণ জনপদে নিষিদ্ধ জাল ও আধুনিক মাছ ধরার উপকরণের অতিরিক্ত ব্যবহারে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার ফাঁদ দাড়কি এখন বিলুপ্তির পথে। একসময় বর্ষা এলেই জেলার নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে দাড়কি বসিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য চোখে পড়ত। টেংরা, পুঁটি, কৈ, শিং, দাইরকা, মোয়া ও খলিশাসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ ধরা পড়ত এই বাঁশের তৈরি ফাঁদে। এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

স্থানীয় মাছ শিকারিরা জানান, কয়েক বছর আগেও বর্ষায় একটি দাড়কি বসালেই প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত মাছ বিক্রিও করা যেত। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়কি পেতে রেখেও তেমন মাছ পাওয়া যায় না। ফলে অনেকেই দাড়কি ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন।

দাড়কি পানির স্বাভাবিক স্রোতে চলাচলকারী মাছ ধরার একটি পরিবেশবান্ধব উপকরণ। এতে সাধারণত মাছের পোনা নির্বিচারে ধরা পড়ে না। অন্যদিকে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি, কারেন্ট জালসহ চিকন ফাঁসের জালে ছোট-বড় মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। এতে মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুপচাঁচিয়া উপজেলার ধাপের হাটে এখনও দাড়কি বিক্রি হতে দেখা যায়। আকারভেদে ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত দামে এসব দাড়কি বিক্রি হচ্ছে।

হাটের দাড়কি বিক্রেতা জহরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের দাড়কি তৈরি করি। তবে বাঁশের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাই দাড়কির দামও বেড়েছে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের চায়না জাল কম দামে পাওয়া যায়। ফলে অনেকে দাড়কির পরিবর্তে চায়না জাল কিনছেন।’

দাড়কি কিনতে আসা ফজলু প্রামাণিক বলেন, ‘দ্রুত বেশি মাছ শিকারের লোভে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বাড়লেও এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ভয়াবহ। এতে মাছের উৎপাদন কমার পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে শত বছরের পুরোনো দেশীয় মাছ ধরার ঐতিহ্য দাড়কি হারিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, দেশীয় মাছ রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। নদী, খাল-বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা গেলে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং দাড়কির মতো পরিবেশবান্ধব ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার উপকরণের ব্যবহারও ফিরে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights