বগুড়ায় বিপৎসীমার কাছাকাছি যমুনার পানি

বিশেষ প্রতিনিধি, বগুড়া:

বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অতি বৃষ্টিতে গত কয়েকদিন ধরেই পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শনিবার (১৮ জুলাই) যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৯ সেন্টিমিটার। পানি বৃদ্ধির ফলে ফসলি জমি ও আমনের বীজতলাসহ অন্যান্য আবাদ পানিতে তলিয়ে গেছে। ভাঙছে নদীর পাড়ও। এতে করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন স্থানীয় কৃষক এবং নদীপাড়ারে মানুষ। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, উজানের পাহাড়ি ঢল এবং ভারি বর্ষণের জন্য যমুনা এবং বাঙালি নদীর পানি গত কয়েকদিন ধরেই বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকায় বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং চলমান বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নদীর পানি বাড়তে থাকায় যমুনার তীরবর্তী নিচু এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি নদী ভাঙনের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। এদিকে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বাঙালি নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাঙালি নদীর পানি ৩৮ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। শনিবার সকালে সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীর পানি সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৬.৫৬ মিটার। অর্থাৎ যমুনার পানি এখনো বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কয়েকদিনের টানা বর্ষণে উপজেলার বেশকিছু মাছের খামার ভেসে গিয়ে নষ্ট হয়েছে। অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকার গো চারণভূমি পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। যমুনা ও বাঙালি নদীবেষ্টিত উপজেলার নদীকূলীয় লোকজনদেরকে প্রকৃতির সাথে লড়াই সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়। বছরের ৩ থেকে ৬ মাস বন্যার পানিতে নিমজ্জিত এলাকাগুলোর মানুষকে ক্ষতি মেনে নিয়েই চলতে হয়। এদিকে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি থাকায় চরাঞ্চলের মানুষরা বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ অথবা উঁচু কোথাও আশ্রয় নেয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল এবং ভারি বর্ষণের জন্য যমুনা এবং বাঙালি নদীর পানি গত কয়েকদিন ধরেই বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ধারণা করা হচ্ছে দুই নদীর পানিই দু’একদিনের মধ্যেই স্থিতিশীল হয়ে কমতে শুরু করবে। পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে উজানে যদি আবারো ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। সেক্ষেত্রে পানি আবারো বাড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights