বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড

বিশেষ প্রতিনিধি, বগুড়া

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বগুড়ার আদালতে এই প্রথম কোনো হত্যা মামলায় পাঁচজনের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেছেন বিচারক। এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশু রিফাতের (৮) পরিবার। দীর্ঘ ৮ বছর পর আদালতের শুনানি শেষে শাজাহানপুর উপজেলার এই শিশু হত্যার এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এই রায় দেন। এই অপরাধের সময় নাবালক হওয়ায় আরও পাঁচ জনকে ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস ভোলাগাড়ী এলাকার মো. আবুল কালাম আজাদ, খাদাস তালুকদার পাড়ার মো. সেলিম ইসলাম, একই এলাকার মেহেদী হাসান, খাদাস মাঠপাড়ার মো. রাজু মিয়া ওরফে পাঁচফুল ও খাদাস ভোলাগাড়ী এলাকার মো. সাগর। এদের মধ্যে সাগর ও সেলিম ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক আছেন।

নিহত রিফাত শাজাহানপুরের খাদাস হাটখোলা এলাকার এনামুল হকের ছেলে। আসামিরা সবাই নিহতের পরিবারের প্রতিবেশি ও পরিচিত।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই শিশু রিফাতকে হত্যা করে মরদেহ গুম করে আসামিরা। পরে মরদেহের সন্ধান পেয়ে ১৮ জুলাই শাহাজানপুর থানায় মামলা করেন নিহতের পিতা এনামুল হক। এনামুল হক প্রবাসী ছিলেন। দেশে আসার পর তার কাছে থেকে বিভিন্ন সময় প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ টাকা চাইতো। ঘটনার দিনেও এনামুলের কাছে ১ লাখ টাকা ধার হিসেবে দাবি করেছিলেন আবুল কালাম আজাদ। কিন্তু সেই টাকা দিতে অস্বীকার করেন এনামুল।

এরপর ওইদিন বিকেল থেকে এনামুলের বড় ছেলে রিফাত হোসেনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে না পেয়ে থানায় জিডি করেন এনামুল। এর তিন দিন পর স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে এনামুল জানতে পারেন পার্শ্ববর্তী পোয়ালগাছা গ্রামের ব্রিজের নিচে এক শিশুর মরদেহ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে নিখোঁজ শিশু রিফাতের মরদেহ শনাক্ত করেন তার পরিবার। পরে নিহত রিফাতের পিতা এনামুল হক শাজাহানপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। তবে মাসুদ রানা নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ায় মামলা থেকে তার নাম বাদ পড়ে। এর আগে শিশু রিফাত হত্যার দায় স্বীকার আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আলী আসগর জানান, এ মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৭ ও ৮ ধারায় শাস্তি হয়েছে। এছাড়া হত্যা ও মরদেহ গুম করার অপরাধও প্রমাণিত হয়েছে আদালতে। আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তবে অপরাধের সময় বয়স কম থাকায় ৫ জনকে ১০ বছরের সাজা দিয়েছেন বিচারক। তারা এখন প্রত্যেকে ২৬ বছর বয়সি। আর অপরাধের সময় প্রাপ্তবয়স্ক থাকায় অপর পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

নিহত শিশু রিফাতের পিতা এনামুল হক জানান, এই রায়ে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। বগুড়ার আদালতে আমার ছেলে হত্যার ন্যায় বিচার পেয়েছি। এই রায় যেন উচ্চ আদালতে বহাল থাকে এই দাবি জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights