বগুড়ার উন্নয়নে প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা

শফিউল আলম দোলন, আবদুর রহমান টুলু ও শফিকুল ইসলাম সোহাগ, বগুড়া থেকে

দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনার অভিযোগ পেছনে ফেলে বগুড়াকে আধুনিক, বাসযোগ্য ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তাঁদের মতে, কৃষি, শিল্পবাণিজ্য ও শিক্ষায় বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং আধুনিক অবকঠামোর ঘাটতি বগুড়ার অগ্রগতির পথে বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বগুড়া তথা উত্তরাঞ্চলের কৃষিখাত ও শিল্পায়নের আধুনিকায়ন ও বগুড়ায় বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু, রেলক্রসিংয়ে আন্ডারপাস নির্মাণ, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আধুনিকায়ন, বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক গবেষণা, কৃষিপণ্য রপ্তানি এবং শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁরা করতোয়া নদী খনন ও পুনঃখনন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও নাগরিকসেবার মান বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। গতকাল বগুড়ায় হোটেল মম ইন কনভেনশন সেন্টারে দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক লোটন একরামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। অনুষ্ঠানটির সহযোগিতায় ছিল বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএস। বাংলাদেশ প্রতিদিনের যুগ্ম সম্পাদক মাসুদ করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পত্রিকাটির বগুড়া ব্যুরোপ্রধান আবদুর রহমান টুলু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীর শাহে আলম বলেন, বগুড়া উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র। আড়াই হাজার বছরের সভ্যতার স্মারক পুণ্ড্রনগরী বগুড়াকে দীর্ঘদিন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। গত ২০ বছর বগুড়ার মানুষ উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়েছে। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র আট মাস। উন্নয়ন দৃশ্যমান হতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে বগুড়ার উন্নয়নে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়া কৃষিতে উদ্বৃত্ত একটি জেলা। এখানে বছরে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। অথচ সম্ভাবনাময় এই জেলাকে দীর্ঘদিন কাক্সিক্ষত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বগুড়াকে শিল্প, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নগরায়ণের ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে।

বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, আরাফাত রহমান কোকো প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। বগুড়া বহুমাত্রিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। তিনি আরও বলেন, বগুড়া সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলার উন্নয়নে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং পৌরসভাগুলোর জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বগুড়া ওয়াসা ও বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় ডাকবাংলো নির্মাণ ও উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিসিক শিল্পপার্কের কাজও শিগগিরই শুরু হবে।

বগুড়ার সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে বিভিন্ন মহাসড়ক চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যানজট নিরসন ও শহরের সৌন্দর্যবর্ধনে প্রাথমিকভাবে ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যমুনার ভাঙনরোধ, পানি সংরক্ষণে ড্যাম্প স্টেশন নির্মাণ এবং স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণেও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে বহুমাত্রিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। করতোয়া নদীর পাশ দিয়ে চার লেনের সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। জাতীয় উন্নয়ন বরাদ্দ নিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো দেশকে সমান চোখে দেখেন। রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং গোপালগঞ্জ জেলার উন্নয়নে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়ন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জন্য নয়; দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ উত্তরাঞ্চলের মানুষকে উন্নয়নের নামে ধোঁকা দিয়েছে। মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকারের সময়ও মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। অতীতের এসব অভিজ্ঞতা ভুলে গেলে চলবে না। বিএনপির নেতা-কর্মীদের শুধু ১৭ বছরের নির্যাতনের কথা না বলে গত ২০ বছরের নির্যাতন ও বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। দলের ভিতরেও অপপ্রচার ও হিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘বট-গুপ্ত শুধু আওয়ামী লীগ বা জামায়াতে নেই, নিজেদের দলেও আছে। হিংসা থেকে অপপ্রচার চালিয়ে কোনো লাভ নেই। আসুন, ভালো কাজকে উৎসাহিত করি। বগুড়ার স্বার্থে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক হই।’

শহরের যানজট ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তিনি বগুড়ার প্রতিটি বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের আহ্বান জানান। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নিরাপত্তার ঝুঁকি উপেক্ষা করেও মানবিক প্রধানমন্ত্রী জনগণের সঙ্গে মিশছেন, মানুষের কাছে যাচ্ছেন। তাঁর পাশে থেকে বগুড়ার উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ইনশাআল্লাহ, আমরা বগুড়াকে এগিয়ে নেব।’

প্রধান বক্তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়া দীর্ঘদিন বঞ্চিত থেকেছে। এই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বগুড়ার উন্নয়ন করতে হবে। আমরা তা করব, ইনশাআল্লাহ। বিগত ২০ বছরে বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে যে ভণ্ডামি হয়েছে, আপনারা তার সাক্ষী।’ তিনি বলেন, বগুড়ার প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে বগুড়ার সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আরাফাত রহমান কোকোর নামে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হলেও সেটি অবহেলা ও অযত্নে পড়ে ছিল। বগুড়ার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের কোথাও ন্যূনতম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘আপনারা সত্যকে সত্য হিসেবে তুলে ধরুন। আপনাদের অবাধ স্বাধীনতা রয়েছে। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে তা কারও বিরুদ্ধে গেলেও আমরা স্বাগত জানাব।’

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরাম অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, প্রধান বক্তা, সংসদ সদস্য, সব অতিথি, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, বিশিষ্টজনসহ সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষ করে অনুষ্ঠানটিতে বিশেষভাবে সহযোগিতা করায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএসকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। রেজাউল করিম বাদশা এমপির ‘গত ১৭ বছরে কেন্ আপনারা এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেননি?’ এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, দেশে ১৭ বছর সাংবাদিকতা করার মতো পরিবেশ ছিল না। সাংবাদিকদের হাত-পা বাঁধা ছিল। তখন শুধু ডিক্লেয়ারেশন টিকিয়ে রাখার জন্য যেভাবে বলা হতো, সেভাবেই সংবাদ প্রকাশ করা হতো। এ প্রসঙ্গে তিনি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর নিজের একটি সাক্ষাৎ এবং কিছু কথোপকথনের কথা তুলে ধরে বলেছেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, আপনার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা বেগম খালেদাি জিয় মিডিয়াবান্ধব ছিলেন। আশা করি তাঁদের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আপনিও মিডিয়াকে সহযোগিতা করবেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, কিন্তু আমার মা-বাবার প্রতি আপনারা কি সঠিক আচরণ করেছেন?’ লোটন একরাম বলেন, ‘আমাদের পূর্বসূরিরা হয়তো পরিবেশ না থাকায় পারেননি। কিন্তু আমরা যারা এখনকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি, তারা ভালো আচরণ করব। আর সরকার কোনো ভুল করলে আমরা গঠনমূলক সমালোচনা করব।’

লোটন একরাম আরও বলেন, এই বগুড়ার একই পরিবারের তিনজন ব্যক্তি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, পরে তাঁরই সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই এলাকার তিনজন ব্যক্তি সরকারপ্রধানের দায়িত্বে থাকলে সে এলাকায় আর কোনো উন্নয়নকাজের বাকি থাকার কথা না। কিন্তু এখানে কথা হলো, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়া যে উদ্যোগগুলো নিয়েছিলেন পরে শেখ হাসিনার সরকার সেগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা করেনি।

বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রধান অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বলেন, বগুড়ার বঞ্চনার ইতিহাস লম্বা। বগুড়ার উন্নয়ন হলে ১৬ জেলা এর সুবিধা পাবে। এখানে উন্নয়ন প্রক্রিয়া চলমান। রাস্তাঘাট শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য জায়গা ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। এখানকার শিল্পসংস্কৃতির উন্নয়ন করতে হবে। বগুড়ার উন্নয়ন দেশের উন্নয়ন।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের যুগ্ম সম্পাদক মাসুদ করিম বলেন, দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রতিষ্ঠার প্রথম দিন থেকেই বগুড়াকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। সেজন্য ঢাকার পাশাপাশি বগুড়ায় প্রেস প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বগুড়ার জন্য প্রতিদিন এক পৃষ্ঠা বরাদ্দ থাকে। তিনি বলেন, ‘সব রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যকে সত্য, মিথ্যাকে মিথ্যা লিখে যাচ্ছে। আমাদের স্লোগান “আমরা জনগণের পক্ষে”।’

টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. হোসনে-আরা বেগম বলেন, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কৃষি ও কুটিরশিল্পের অভাবনীয় উৎপাদনে সেকাল থেকেই এই জনপদ ছিল উর্বর। প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন সভ্যতা মৌর্য ও গুপ্ত যুগ, পাল রাজবংশ, সেন রাজবংশ, সুলতানি শাসন, মোগল শাসন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ও পাকিস্তানের বঞ্চনার শাসন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ইত্যাদি বিবেচনায় বগুড়ার ইতিহাস বৈচিত্র্যময় বর্ণাঢ্য প্রাচীন ও ঘটনাবহুল। বগুড়ার জনপদের ন্যায্য অধিকার এখনো উপেক্ষিত।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং বগুড়া-৬ আসনের এমপি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি ও বিএনপির ঘাঁটি হওয়ার কারণে এই এলাকা ছিল উন্নয়নবঞ্চিত। তিনি অভিযোগ করেন আমলারা এলাকার উন্নয়নে বিলম্ব করছেন।

বগুড়া-৩ আসনের এমপি আবদুল মুহিত তালুকদার বলেন, বগুড়ার উন্নয়নের কথা বললে অনেকের গা জ্বলে। বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা এখন অনেক। তিনি বলেন, বগুড়ার শান্তহার ইউনিয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানো কোনো হাসপাতাল নেই। রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান বলেন, বগুড়ার উন্নয়ন যা হয়েছে তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে হয়েছে। ১৭ বছরে এই এলাকার মানুষ নানাবিদ সমস্যায় ছিল। সময় এসেছে একসঙ্গে এলাকার উন্নয়ন করার।

বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, বগুড়াবাসী একত্র থাকলে উন্নয়ন সহজ হবে। উন্নয়নে মাস্টার প্ল্যান হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। সম্প্রসারণে জায়গা ছাড় দিতে হবে।’

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কুদরত-ই-জাহান বলেন, ১৭ বছর এলাকার শিক্ষিত ছেলেরা চাকরিবঞ্চিত হয়েছে। তাঁদের দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আত্মহত্যার প্রবণতা ঠেকাতে মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কথাও বলেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার বগুড়াকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। সরকারি সাহায্য আসেনি। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে একসঙ্গে বাস করে। শিগগিরই বগুড়ায় পিআইবির শাখা প্রতিষ্ঠার কথা জানান তিনি।

বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, সাতমাথার যানজট নিরসনে স্ট্যান্ড সরিয়ে নিতে হবে। শহরকেন্দ্রিক ইউনিভার্সিটি না করে একটু দূরে করতে হবে। পরিকল্পিত উন্নয়ন করতে হবে। সময় নিয়ে প্ল্যানিং করতে হবে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, এখানে পুলিশ জনবল ও ট্রান্সপোর্ট আরও দরকার। চরাঞ্চলে সোলার প্যানেল প্রকল্প করা যেতে পারে। ৪৮টি রেলক্রসিং রয়েছে। যানজট নিরসনে আন্ডারপাস বা বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।

টিএমএসএসের উপপরিচালক রোটারিয়ান ডা. মতিউর রহমান বলেন, উত্তরাঞ্চলে বগুড়া সবচেয়ে জনবহুল। বগুড়ার উন্নয়ন হলে আট জেলা তার ফল ভোগ করবে। তিনি জানান, সংরক্ষণের অভাবে এখানকার উৎপাদিত অনেক ফসল নষ্ট হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, করতোয়া নদী খনন প্রকল্পকাজ শিগগিরই শুরু হবে, সৌন্দর্য ফিরবে। শহরের যানজট নিরসনে বিকল্প রাস্তা নির্মাণ করতে হবে।

পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক ড. আবদুল মজিদ প্রামাণিক বলেন, আদমদীঘির শাউওল গ্রামে বাদাম, ভুট্টা, টুপি ও কম্বলের জন্য পৃথক গবেষণা দরকার। তিনি জানান, ফ্যাসিস্ট আমলে এলকার লক্ষাধিক যুবকের চাকরি হয়নি কারণ তাঁদের বাড়ি বগুড়ায়।

নাজ গার্ডেনের চেয়ারম্যান মো. শোকরানা বলেন, এলাকার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করতে হবে। এখনই সুযোগ উন্নয়নের।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াদুদুল হক তরফদার নাহিদ বলেছেন, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজকে বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বেডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জনবল দিতে হবে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। বগুড়া ইয়থ কয়্যারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক আলম টিপু বলেন, মিউজিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যাত্রাশিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু বলেন, প্রস্তাবিত বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি অনুষদ পৃষক স্থানে স্থাপনের দাবি জানান। এতে জায়গা পাওয়া সহজ হবে। সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বগুড়া। এখানে উন্নয়নের ফুলঝুরি চলছে। কিন্তু বাস্তবায়ন ক্ষীণ। এখানকার সংস্কৃতি খারাপ অবস্থায়।

বগুড়া টেলিভিশন রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মোহন আকন্দ বলেন, এখানকার মানুষ কর্মমুখী। শিল্পকারখানা তৈরি করতে হবে। যানজট বাড়ছে, কারণ শিক্ষিত বেকাররা অটো নিয়ে রাস্তায় নামছেন। টিএমএসএসের হাবিবুর রহমান মিলটন বলেন, বগুড়া শহরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ২০৫০ সালের পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। যানজট, ড্রেনেজ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান এখানকার প্রধান সমস্যা। সংকট সমাধানে ড্যাপ, পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক, বাইপাস, টার্মিনাল ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights