বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা চলতি শিক্ষাবর্ষেই শুরু
দীর্ঘ ২৫ বছর পর নতুন আইন ও নামে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়। চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষেই গুচ্ছ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান। বগুড়ার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের লক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
উপাচার্য জানান, ২০০১ সালে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন পাস হলেও দীর্ঘদিন এর কার্যক্রম ফাইলবন্দী ছিল। বর্তমান আইনের সঙ্গে ২০০১ সালের আইনের প্রায় ৯৯ শতাংশ পার্থক্য রয়েছে। গত ১৬ জুলাই নতুন আইনের গেজেট অনুমোদন এবং ১৯ জুলাই তা বাস্তবায়নের পর গত আড়াই মাসে একাডেমিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে ১১ জনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, চাকরির বাজারের চাহিদা বিবেচনায় প্রাথমিক পর্যায়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), রোবোটিক্স, কম্পিউটার সায়েন্স ও ফিনটেকসহ নয়টি যুগোপযোগী বিভাগ চালুর প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী মার্চে নির্ধারিত গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে।
শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, স্বজনপ্রীতি বা সুপারিশের ভিত্তিতে নয়, মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক নেতারা দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। তারা নির্ধারিত সময়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু, স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তোলা, আঞ্চলিক চাহিদার প্রতিফলন এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক প্রতিনিধি মেহেরুল সুজন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ চালুর দাবি জানান।
