বড় প্রকল্পে নজর সিডিএর
রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অন্যতম মিশন নগরে সুপরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা। কিন্তু গত ১৮ বছরে সংস্থাটি নতুন করে আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করেনি। উল্টো অতীতের তিনটি আবাসিকে হয়নি কোনো উন্নয়ন। তাছাড়া গত প্রায় ছয় বছরে নতুন কোনো উন্নয়ন প্রকল্পও গ্রহণ করেনি। বরং বড় বড় প্রকল্পের দিকেই মনোযোগ সিডিএর। ফলে পরিকল্পিত নগরায়ণে দৃশ্যমান কিছু দেখা যায় না।
জানা যায়, সিডিএ প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৫৯ সালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০০৭ পর্যন্ত ১৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর পর গত প্রায় ১৮ বছরে আর কোনো আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করেনি। উল্টো সিডিএর অবহেলায় নাগরিক সুবিধা না থাকায় তিনটি প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে আছে। ফলে আবাসনের চাহিদা থাকলেও গড়ে ওঠেনি কোনো বসতি। এ ছাড়া ধীরগতিতে চলছে নগর উন্নয়নে ‘প্রিপারেশন অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান (২০২০-২০৪১)’ শীর্ষক মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন। ২০২৫ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো কাজ প্রাথমিক পর্যায়ে।
অভিযোগ আছে, গত ১৬ বছরে সিডিএ জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পন, সড়ক সম্প্রসারণ, নতুন সড়ক, ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করেছে। এসব প্রকল্পে নানাভাবে অনিয়ম হওয়ার সুযোগ আছে। ফলে সিডিএর মনোযোগও ছিল বড় বড় প্রকল্পে। এরই মধ্যে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্প নির্মাণ নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। বিতর্কের মুখে ছয়টি র্যাম্প নির্মাণ বন্ধ করা হয়। একই সঙ্গে ভবনের নকশা ও প্ল্যান অনুমোদন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সক্রিয় আছে। চক্রটির কারণে টাকা ছাড়া মেলে না নকশা ও প্ল্যান অনুমোদন। এ নিয়ে ভুক্তভোগীদের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ।
সিডিএ সূত্রে জানা যায়, নগরে বছরে গড়ে ১০ শতাংশের বেশি হারে মানুষ বাড়ে। গত ১০ বছরের ব্যবধানে নগরের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের আবাসন গড়ার মতো ব্যবস্থা নগরে নেই। কিন্তু সরকারি সংস্থাটির দৃশ্যমান কোনো তৎপরতাও দেখা যায় না। গত ১৮ বছরে নগরে কোনো আবাসিক এলাকা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সর্বশেষ ২০০৭ সালে ১ হাজার ৯৮৬টি প্লট নিয়ে হাটহাজারী এলাকায় অনন্যা আবাসিক-২ প্রকল্প গ্রহণ করলেও তা বাতিল করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সিডিএ মোট ৬ হাজার ৩৬৪টি প্লট বরাদ্দ দিয়েছে। অন্যদিকে, সিডিএ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৬৩ সালে ৫৮টি প্লট নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকা, ১৯৬৫ সালে ৩৯১টি প্লট নিয়ে আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, ১৯৭৩ সালে ৭৫৯টি প্লটের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, ১৯৭৭ সালে ১৬৮টি প্লটের কর্নেল হাট সিডিএ আবাসিক এলাকা, ১৯৮৪ সালে ৯০৪টি প্লটের সলিমপুর সিডিএ আবাসিক এলাকা, ১৯৯৫ সালে ৫১৭টি প্লট নিয়ে কর্ণফুলী আবাসিক এলাকা, ২০০০ সালে ১৮০টি প্লটের চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকা, ২০০২ সালে ৮২টি প্লট নিয়ে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা (দ্বিতীয় পর্যায়), ২০০৬ সালে ৪২৩টি প্লট নিয়ে কল্পলোক আবাসিক এলাকা (প্রথম পর্যায়), ২০০৭ সালে ১৩৫৬টি প্লট নিয়ে কল্পলোক আবাসিক এলাকা (দ্বিতীয় পর্যায়), ২০০৮ সালে ১৪৭৮টি প্লটের অনন্যা আবাসিক এলাকা-১, প্লটের সংখ্যা ১৪৭৮টি ও ২০০৯ সালে ৪৮টি প্লট নিয়ে নির্মাণ করা ষোলশহর পুনর্বাসন এলাকা।
