বরগুনার জলমহালে মাছ মরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, দুর্ভোগে জলমহালের পাশে বসবাস করা বাসিন্দারা!

মোঃ শাজনুস শরীফ বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার সরকারি একে পাইলট হাই স্কুল সংলগ্ন জলমহালের পানিতে এ্যামোনিয়া গ্যাসের সৃষ্টি হওয়ায় পানি নষ্ট হয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠছে। মরা মাছের দুর্গন্ধে জলমহালের পাশে বসবাসকারী শত-শত পরিবার চরম দূর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় ভূক্তভোগীরা জানান, সরকারি একে পাইলট হাই স্কুল সংলগ্ন ওই জলমহালটি আমতলী দোন বা চাওড়া বদ্ধ মৎস্য জলমহাল নামেই পরিচিত। প্রায় ৩০ একর জায়গা জুড়ে ওই জলমহালের অবস্থান।ওই জলমহালের পূর্ব,দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে আমতলী পৌরসভার ২নং,৩নংও ৬নং ওয়ার্ডের একটি অংশ পড়েছে। জলমহালের উত্তর পাশে আমতলী পৌরসভা কার্যালয় অবস্থিত। ওই জলমহালের তিন দিকে শত-শত পরিবার তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করেন। ওই পরিবারগুলোর গোসলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল কাজে ওই জলমহালের পানি ব্যবহার করে থাকেন।

গত দুই মাস ধরে ওই জলমহালের পানিতে এ্যামোনিয়া গ্যাসের সৃষ্টি হওয়ায় পানি নষ্ট হয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠছে। মাছ মরে পচে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মরা মাছের দুর্গন্ধে জলমহালের পাশে বসবাসকারী শত-শত পরিবারগুলো অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এছাড়া জলমহালের পাশের সড়কে চলাচলরত মানুষজন দুর্গন্ধে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারছেন না।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই জলমহালের চাষকৃত বিভিন্ন প্রজাতির শত-শত মাছ মরে জলমহলের মধ্যে পানিতে ভাসছে। দুর্গন্ধে কাছে যাওয়া যায় না।

জলমহালের পূর্বপাড়ে বসবাসকারী ভূক্তভোগী জসিম উদ্দিন বলেন, গোসল তো দূরের কথা ওই জলমহালের পানি কোন কাজে ব্যবহার করতে পারছি না। মরা মাছের দুর্গন্ধে বাসায় পর্যন্ত থাকতে পারছিনা।

জলমহালের পশ্চিমপাড়ে বসবাসকারী বিরাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, গত দুই মাস ধরে ওই জলমহালের মাছ মরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ কারনে ওই জলমহালের পানি আমরা কোন কাজে ব্যবহার করতে পারছিনা।

জলমহালের ইজারাদার মোঃ মিরন খান বলেন, জলমহালের তিন পাড়ে বসবাসরত পরিবারগুলো তাদের সকল বর্জ্য জলমহালের ভেতরে ফেলায় পানিতে গ্যাসের সৃষ্টি হয়ে মাছগুলো মারা যাচ্ছে। এছাড়া পৌরসভার ৩টি ওয়ার্ডের একাংশের অনেক ড্রেনের ময়লা পানি ও বর্জ্য জলমহালের পানিতে ফেলা হচ্ছে। ওই বজ্র থেকে গ্যাসের সৃষ্টি হয়ে মাছগুলো মারা যাচ্ছে। গত দুই মাসে তার প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের মাছ মারা গেছে বলে তিনি দাবী করেন।
তিনি আরো বলেন, জলমহালের পানি নিষ্কাষনের জন্য উত্তর পাশে পৌরসভা কার্যালয়ের পাশ দিয়ে একটি ড্রেন পায়রা নদীর শাখা নদীর সংঙ্গে সংযোগ দেয়া হয়েছে। ওই ড্রেনের সম্মুখভাগ ভাগ উচু থাকায় নদী থেকে পানি ঠিকমত জলমহালে আসা যাওয়া করতে পারেনা। নদীর পানি লেকে প্রবেশ করতে পারলে পানি ভাল হয়ে মাছ মরা বন্ধ হয়ে যেত বলে তিনি দাবী করেন। ড্রেনের সম্মুখ ভাগ নিচু করে দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে তিনি আমতলী পৌরসভার মেয়র ও বরগুনা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, আমার ধারনা ওই জলমহালে এ্যামোনিয়া গ্যাসের সৃষ্টি হওয়ায় মাছগুলো মারা যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখে মাছ চাষীকে জরুরী ভিত্তিতে মাছ রক্ষার জন্য পরামর্শ দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights