বরিশালজুড়ে ক্লিনিকে বিশেষ নজরদারির ঘোষণা অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসকদের
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:
অ্যানেস্থেসিয়া সেবায় চলমান অনিয়ম ও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেস্থেসিওলজিস্টস, ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড পেইন ফিজিশিয়ানস (বিএসএ-সিসিপিপি) বরিশাল শাখা। এ লক্ষ্যে বরিশাল নগরীসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে অপারেশন থিয়েটারে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বিএসএ-সিসিপিপি বরিশাল শাখার সাধারণ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং বিএসএ-সিসিপিপি বরিশাল শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম।
সভায় বক্তারা বলেন, বিভাগের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে কিছু সার্জন একই সঙ্গে অস্ত্রোপচার ও অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্ব পালন করছেন, যা চিকিৎসা নীতিমালা ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। এছাড়া কিছু অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট একই সময়ে একাধিক অপারেশন টেবিলে অ্যানেস্থেসিয়া সেবা দিয়ে রোগীর নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।
এ সময় আরও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় যে, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন ছাড়াই কিছু ব্যক্তি অ্যানেস্থেসিয়া কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে বিভাগজুড়ে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, অ্যানেস্থেসিয়া সেবায় বিদ্যমান অনিয়ম ও সমস্যার বিষয়টি বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জন এবং বিভিন্ন ক্লিনিক মালিককে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ডা. এ.কে.এম. ফখরুল আলম ও ডা. মো. জাহিদ হাসান, কোষাধ্যক্ষ ডা. জিয়াউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. মেহেদী হাসান আউমি, প্রেস ও প্রকাশনা সম্পাদক ডা. মো. ইমরানুল হাসান আরজু, বৈজ্ঞানিক সম্পাদক ডা. মো. শাকুরুজ্জামান এবং দপ্তর সম্পাদক ডা. চাঁদনী সিদ্দিকী।
সভায় নেতারা বলেন, নিরাপদ অস্ত্রোপচার নিশ্চিত করতে অ্যানেস্থেসিয়া সেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা পেশাগত অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
