বরিশালের বাজারে ইলিশের হাহাকার

সাইদ মেমন, বরিশাল

ভরা মৌসুমেও বরিশালের বাজারে যেন ইলিশের হাহাকার। অভ্যন্তরীণ নদনদীতে মিলছে না রুপালি শস্যের দেখা, সাগরেও চলছে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। ফলে গত এক সপ্তাহ ধরে বরিশালের বাজারে ইলিশের সরবরাহ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ক্রেতারা বাজারে গিয়ে ফিরছেন হতাশ হয়ে আর জেলেরা নদীতে জাল ফেলেও পাচ্ছেন না কাক্সিক্ষত ইলিশ। শুক্রবার নগরীর পোর্ট রোড ইলিশ মোকাম ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি আড়তে অল্প কিছু ইলিশ সাজানো থাকলেও সেগুলোর বেশির ভাগই স্থানীয় নদীর নয়। আগে ধরা সমুদ্রের মাছ দিয়েই কোনোমতে চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। মেসার্স আক্তার ফিশ সাপ্লায়ার্সের স্বত্বাধিকারী মাসুম মৃধা বলেন, ঈদের পর থেকে বাজারে ইলিশের সরবরাহ একেবারেই কমে গেছে। স্থানীয় নদী থেকে দু-তিন মণ মাছ এসেছে। চাহিদার তুলনায় এটি খুবই সামান্য। তাই বাধ্য হয়ে সমুদ্রের কিছু মাছ সংগ্রহ করতে হয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেড়েছে দামও। বাজারে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ টাকায়, ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের মাছ ১ হাজার ৬০০ টাকায়, সাড়ে ৭০০ গ্রাম ওজনের মাছ ২ হাজার টাকায় এবং কেজির ইলিশ বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। ইলিশ সংকটের জন্য জাটকা নিধনকে দায় দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, মেঘনা নদীসংলগ্ন হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ এলাকায় এখনো অবাধে কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকা ধরা হচ্ছে। ফলে নদীতে বড় ইলিশের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। ব্যবসায়ী মো. সুজন বলেন, জাটকা রক্ষায় কঠোর অভিযান ছাড়া ইলিশ বাঁচানো সম্ভব নয়। জাটকা মৌসুমে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা প্রয়োজন। শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, হতাশ জেলেরাও। হিজলা উপজেলার অরাকুল গ্রামের জেলে আরিফ বলেন, সারা দিন নদীতে জাল ফেলেও মাছ পাই না। দু-একটা জাটকাও জালে আসে না। তেলের খরচই ওঠে না। এমন অবস্থা জীবনে দেখিনি। ব্যবসায়ী ও জেলেদের দাবি, ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোতে ইলিশসংকট আরও প্রকট হয়ে উঠবে। আর সে সংকটের প্রভাব পড়বে বাজার, জেলে পরিবার ও জাতীয় অর্থনীতিতেও। বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. হাদিউজ্জামান বলেন, অস্বাভাবিকভাবে অভ্যন্তরীণ নদী থেকে ইলিশ মাছ কমে গেছে। কয়েকদিন আগে নদীতে গিয়েছি। জেলেদের জালে ইলিশ মাছ উঠছে না। ইলিশের প্রবেশপথে ডুবোচরের কারণে সাগর থেকে ইলিশ মাছ আসতে পারে না। এ ছাড়া প্রবেশপথে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান করতে না পারলে অভ্যন্তরীণ নদীতে ইলিশ আরও কমে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights