বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দেশের সব মানুষের অভিন্ন পরিচয়: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

জবি প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল দর্শন হলো বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিকের অভিন্ন পরিচয় ‘বাংলাদেশি’। এই পরিচয় কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, ভাষা, বর্ণ, জাতিগোষ্ঠী বা সংস্কৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশের সব মানুষের বৈচিত্র্যকে ধারণ করেই এই জাতীয়তাবাদের বিকাশ।

আজ বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) জবি শাখার উদ্যোগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনার প্রধান অতিথির বক্তব্যের তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রাসঙ্গিকতা অনুধাবন করতে হলে দেশের ইতিহাসের ধারাবাহিকতার দিকে ফিরে তাকাতে হবে। ১৯৪৭ সালে ধর্মীয় পরিচয়কে ভিত্তি করে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হলেও পরবর্তীতে ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, ভৌগোলিক বাস্তবতা ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্ন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৪৮ সালে শুরু হওয়া রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক রূপ লাভ করে। এর ধারাবাহিকতায় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন, ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পথ সুগম হয়। এসব ঐতিহাসিক ঘটনা প্রমাণ করে, একটি জাতির পরিচয় নির্ধারণে কেবল ধর্মীয় পরিচয় যথেষ্ট নয়; ভাষা, সংস্কৃতি, অধিকার ও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাও জাতিসত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি। মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের সাহসী ভূমিকা ও স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে যুদ্ধের পথে এগিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা যুগিয়েছিল। তার নেতৃত্বে সামরিক প্রতিরোধের সূচনা মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে প্রবাসী সরকার ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠিত সামরিক কাঠামোর মাধ্যমে স্বাধীনতার সংগ্রাম আরও সুসংগঠিত হয় এবং দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সামনে জাতীয় পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দেয়। ১৯৪৭ সালের ধর্মভিত্তিক জাতীয় পরিচয় যেমন টেকসই হয়নি, তেমনি স্বাধীন বাংলাদেশের বহুমাত্রিক জনগোষ্ঠীর জন্য একটি সর্বজনগ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়ের প্রয়োজনীয়তাও দেখা দেয়। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন প্রবর্তনের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রকেন্দ্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়ের ধারণা সামনে আনেন।

ইউট্যাব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। প্রধান আলোচক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নাসির আহমাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights