বাংলাদেশের ‘রেডিমেড’ প্রতিপক্ষ নেপাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সব কিছু ঠিক, চাইলেই পাওয়া যায়। যাকে রেডিমেড বলা যায়। ফুটবলে নেপালকে এখন বংলাদেশের রেডিমেড প্রতিপক্ষ বলা যেতে পারে। প্রীতি বা প্রস্তুতি ম্যাচ হলেই প্রতিপক্ষ হিসেবে নেপালকে পাওয়া যায়। মাঝে মধ্যে এর ব্যতিক্রম ঘটলেও অধিকাংশ প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশ সামনে পাচ্ছে নেপালকে। এই তো গত সেপ্টেম্বরে কাঠমান্ডুতে নেপালের বিপক্ষে খেলে এলেন রাকিবরা। দুই মাস যেতে না যেতে ঢাকায় আবার দুই দেশ মুখোমুখি হচ্ছে। ১৩ নভেম্বর ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ নভেম্বর একই ভেন্যুতে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে হাইভোল্টেজ ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দুই দেশের চূড়ান্ত পর্বে খেলার সম্ভাবনা একেবারে শেষ। তারপরও বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে গুরুত্ব তো থাকবেই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আরও বেশি উত্তেজনা বেড়ে গেছে।

ভারত ম্যাচের প্রস্তুতি হিসেবে নেপালের বিপক্ষে খেলে ভুলত্রুটি শুধরিয়ে নেবেন জামাল ভূঁইয়ারা। হংকং ম্যাচের আগেও একই ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্ন হচ্ছে নেপাল ছাড়া অন্য প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলা যায় না? অবশ্য ১৩ নভেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। আফগানিস্তান ঢাকায় আসবে না বলে প্রতিপক্ষ হিসেবে নেপালকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। নেপাল যেন প্রস্তুতই থাকে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার জন্য। এজন্য নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ধন্যবাদ দিতে হয়। বাফুফে খেলার অফার দিলে কখনো না করেনি।

নেপালকে আবার দুর্বল প্রতিপক্ষও বলা যাবে না। বাংলাদেশের বিপক্ষে বরাবরই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। তবে প্রীতি ম্যাচে প্রতিপক্ষ অধিকাংশ সময়ে নেপাল হওয়ায় ফুটবলপ্রেমীদের বিরক্ত তৈরি হয়েছে। এতে জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলাররাও ক্ষুব্ধ। তাদের কথা পারফরম্যান্স যাচাই করতে আরও শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলা দরকার। বাফুফে থেকে বলা হচ্ছে, চেষ্টা তো করা হয়। এখন শিডিউলে ব্যস্ততা বা বাংলাদেশের সঙ্গে খেলতে না চাইলে কী করবে? বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা তো নিজেদের অতি যোগ্য সংগঠক মনে করেন। সাংগঠনিক ক্ষমতা থাকলে শক্তিশালী দেশগুলোকে কেন খেলতে রাজি করাতে পারেন না।

সাবেক তারকা ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু বলেছেন, ‘শক্তিশালী মানে তো এশিয়ার সেরা দেশগুলোর কথা বলছি না। র‌্যাঙ্কিংয়ে যারা বাংলাদেশের কাছাকাছি তাদেরও প্রীতি ম্যাচের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারে। বলা হচ্ছে, চেষ্টা করেও লাভ হচ্ছে না। চেষ্টাটা আবার কীভাবে করা হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একটা দলকে রাজি করাতে হলে সাংগঠনিক দক্ষতা দরকার। তা কি নেই? অনেকে তো ফুটবল উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন। কাজের কাজটা করতে পারেন না কেন? বারবার একই প্রতিপক্ষ হলে তাকে কি পরীক্ষা বলা যায়? এভাবেই চলবে কি দেশের ফুটবল?’

প্রীতি ম্যাচে আবারও নেপাল প্রতিপক্ষ হওয়ায় জাতীয় দলের এক কোচিং স্টাফও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মেয়েরা যদি থাইল্যান্ডে গিয়ে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে তাহলে পুরুষ জাতীয় দল কেন পারবে না। সেই ধরনের চেষ্টা কি কখনো করা হয়েছে? নাকি টেলিফোন করলেই নেপাল রাজি হয়ে যায় বলে অন্যদিকে তাকায় না। হার বা জয় হোক প্রতিপক্ষ তখন রেডিমেড হয়ে গেলে তাতে ভালো কিছু হয় না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights