বাংলাদেশে ঢুকে মারধর, কৃষকদের ধাওয়ায় পালালো বিএসএফ
রেজাউল করিম মানিক, লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে কৃষকদের ওপর হামলা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ সময় বাংলাদেশের কৃষকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করলে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি ছুড়ে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায় বিএসএফ সদস্যরা। এতে পুরো সীমান্ত এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করে।
শনিবার সন্ধ্যার পর লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্তের ৮৩৭/৪এস নম্বর মেইন পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাংলাদেশের কৃষকরা মাঠে কাজ করে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল । এ সময় বেশ কয়েকজন বিএসএফ সদস্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। বাংলাদেশিদের জমি থেকে তাদের চলে যেতে বলে। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি হলে তারা লাঠিসোঁটা দিয়ে কৃষকদের ওপর হামলা চালায়। পরে কৃষকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লাঠি দিয়ে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে বিএসএফের সদস্যরা বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্য করে ককটেল, সাউন্ড বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে ভারতের সীমানায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিজিবির টহল দল। বিএসএফের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং গুলি ও বোমা বর্ষণের ঘটনার কঠোর ও তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিজিবি।
তবে এ ঘটনার পর থেকে বামনদল সীমান্তে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে বিজিবি সদস্যরা পাহারা বসিয়েছে। বিএসএফের যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দিতে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রস্তুত রয়েছেন।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট-৫১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মুহা. শাহীনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিজিবির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পতাকা বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে। এখানে প্রতিবাদসহ এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটায় সেটিও বলা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএসএফের দাবি-পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে। তবে কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
