বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হচ্ছে : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশে সূক্ষ্ম ও পরিকল্পিতভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির এই চক্রান্তের মাধ্যমে ভাষার মূল রূপ বদলে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যত চক্রান্তই হোক না কেন, এ দেশের মানুষের ভেতরেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধের ক্ষমতা রয়েছে।

শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতির সংকট : স্বরূপ সন্ধান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির মধ্যে পরিকল্পিতভাবে কিছু নতুন শব্দ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চর্চিত ও ব্যবহৃত শব্দগুলোকে বাদ দিয়ে নতুন নতুন রূপ চাপিয়ে দেওয়াটা সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতারই অংশ। খুন আর রক্ত কিংবা লাশের মতো সুপ্রতিষ্ঠিত শব্দগুলোর বদলে অন্য শব্দ বসানোর সূক্ষ্ম চেষ্টা আমরা দেখতে পাচ্ছি।

তিনি বলেন, এই জাতির সংগ্রামের ইতিহাস আছে, ভাষার জন্য রক্ত দেওয়ার ইতিহাস আছে। ফলে যেকোনো সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিহত করার এক অদৃশ্য অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা এই জনগোষ্ঠীর রক্তে রয়েছে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি সংকটকালে একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী ফ্যাসিবাদের তোষামোদি করেছে। অতীতে হিটলারের পেছনে যেমন অনেক নামজাদা বুদ্ধিজীবী লাইন ধরেছিলেন, আমাদের দেশেও ফ্যাসিবাদের সময়ে তা দেখা গেছে। তারা নিখোঁজ, গুম বা ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেননি। অথচ দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীরা চিরকাল মাটির মানুষের পাশে থাকেন এবং সত্য কথা বলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের একত্র হয়ে দেশীয় সংস্কৃতি, জাতীয় পরিচয় ও ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা করা ইতিবাচক উদ্যোগ। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় সংস্কৃতির চর্চা বাড়বে এবং দেশের স্বাতন্ত্র্য রক্ষার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights