বাজারে আসছে রেঞ্জ রোভারের প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি

অনলাইন ডেস্ক

বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে এবার নাম লেখাল রেঞ্জ রোভার। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর নিজেদের প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি উন্মোচন করেছে ব্রিটিশ এই বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। গাড়িটির দাম শুরু হচ্ছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭০ পাউন্ড থেকে (বাংলাদেশি টাকার হিসেবে প্রায় আড়াই কোটি টাকা)।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাড়িটি এক বছর আগেই বাজারে আসার কথা ছিল। তবে নানা কারণে তা পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের সলিহাল কারখানায় তৈরি হয়েছে রেঞ্জ রোভারের প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি। ১৯৭০ সাল থেকে এই কারখানাতেই রেঞ্জ রোভারের গাড়ি তৈরি হয়ে আসছে।

জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার বা জেএলআরের জন্য নতুন এই গাড়ি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর মধ্য দিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ি থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিল প্রতিষ্ঠানটি।

জেএলআরের মালিক ভারতের টাটা মোটরস। প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তর যুক্তরাজ্যের কভেন্ট্রিতে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং ২০২৫ সালের বড় ধরনের সাইবার হামলার পর সরবরাহব্যবস্থায় তৈরি হওয়া সমস্যার কারণে জেএলআরের মুনাফায় চাপ পড়ে।

নতুন বৈদ্যুতিক রেঞ্জ রোভার তৈরির প্রকল্পে কাজ করা ১০ হাজার ৫০০ কর্মীকে বাড়তি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। গাড়িটির সক্ষমতা যাচাই করতেও বড় ধরনের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। রেঞ্জ রোভারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরীক্ষার সময় গাড়িটি বিশ্বের চারপাশে ৩৮ বার ঘুরে আসার সমান দূরত্ব অতিক্রম করেছে। তাদের দাবি, রেঞ্জ রোভারের আর কোনো গাড়ির ক্ষেত্রে এত বড় পরিসরে পরীক্ষা চালানো হয়নি।

গতি ও সক্ষমতার দিক থেকেও গাড়িটিতে বেশ জোর দেওয়া হয়েছে। মাত্র ৪.৩ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতি তুলতে পারে এটি। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, নতুন এই গাড়ির মাধ্যমে রেঞ্জ রোভার আরাম ও সক্ষমতার ক্ষেত্রে নতুন এক যুগের সূচনা করেছে।

তবে গাড়িটির পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে যেমন ইতিবাচক দিক রয়েছে, তেমনি প্রশ্নও আছে। পেট্রল ও ডিজেলচালিত জেএলআর গাড়ির তুলনায় বৈদ্যুতিক হওয়ায় এর পরিবেশের ওপর প্রভাব কম। তবে এত বড় আকারের এসইউভি পথচারীদের সঙ্গে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বেশি প্রাণহানির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাড়িটির ক্রেতাদের জন্য থাকছে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সাজিয়ে নেওয়ার সুযোগও। বিশেষ কাস্টমাইজেশন সেবার আওতায় ক্রেতারা অসংখ্য রং ও ফিনিশিং থেকে পছন্দ করতে পারবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের উন্নত মানের উপকরণ, নিজেদের পছন্দের রঙের সমন্বয় এবং বিশেষ নকশার সূচিকর্মসহ নানা ধরনের ব্যক্তিগত সংযোজনের সুযোগ থাকছে।

রেঞ্জ রোভারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মার্টিন লিমপার্ট বলেন, এই গাড়িটি এক দশকের পরিকল্পিত প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফল।

সলিহাল কারখানায় গাড়িটির উৎপাদন কার্যক্রমকে সহায়তা করবে উলভারহ্যাম্পটনের জেএলআর প্রপালশন ম্যানুফ্যাকচারিং সেন্টার। সেখানে ব্যাটারি প্যাক, বৈদ্যুতিক ড্রাইভ ইউনিট এবং প্রচলিত অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন তৈরি করা হয়।

রেঞ্জ রোভার বলছে, নতুন বৈদ্যুতিক গাড়িটি তাদের জন্য প্রযুক্তি ও প্রকৌশলের ক্ষেত্রে বড় একটি পরিবর্তনের সূচনা করছে।

সোর্সঃ দ্য গার্ডিয়ান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights