বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা রাখার প্রস্তাব ঢাকা চেম্বারের

অনলাইন ডেস্ক
দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে করব্যবস্থার সংস্কার, করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং করহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই)।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা ও সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি।

সোমবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সেমিনারে সংগঠনটি আয়কর ও ভ্যাট ব্যবস্থায় বেশ কয়েকটি কাঠামোগত সংস্কারের প্রস্তাব তুলে ধরে।

সেমিনারে জানানো হয়, ২০২৫ অর্থবছরে দেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত ছিল মাত্র ৬ দশমিক ৭ শতাংশ, যা উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ফলে সরকারকে ঋণ ও পরোক্ষ করের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থনীতি এখনো অনানুষ্ঠানিক খাতে থাকায় বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য রাজস্ব আদায়ের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে করব্যবস্থার অটোমেশন ও সহজীকরণের মাধ্যমে করদাতা শনাক্তকরণ এবং কর নেট সম্প্রসারণ জরুরি বলে মত দেয় ডিসিসিআই।

আয়কর ও মূসক (ভ্যাট) খাতে ডিসিসিআইয়ের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ এবং সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশে সীমিত রাখা। এছাড়া নন-লিস্টেড কোম্পানির করহার লিস্টেড কোম্পানির মতো ২৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং পূর্ণাঙ্গ অটোমেটেড করপোরেট কর রিটার্ন পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করা হয়।

প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়, পিএসআর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর করতে ETDS প্ল্যাটফর্ম বাধ্যতামূলক করে তা eTax NBR Portal-এর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় করা প্রয়োজন। পাশাপাশি উৎপাদনকারীদের ক্ষেত্রে আমদানি পর্যায়ের আগাম কর ধাপে ধাপে বিলুপ্ত এবং বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য তা হ্রাস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

ভ্যাট ব্যবস্থায় সংস্কারের অংশ হিসেবে অনলাইন ম্যানেজমেন্টের পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপ চালু, অগ্রিম ভ্যাট ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে চূড়ান্ত পণ্য বা সেবার মূল্যের ওপর ভ্যাট নির্ধারণ এবং দ্রুত ভ্যাট রিফান্ড নিশ্চিত করতে সিঙ্গেল স্টেপ রিফান্ড ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights