বাবা-মেয়েসহ নিহত ১৪
নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকচালক, বাবা-মেয়েসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এদিকে ঘটনার পরপরই নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের জন্য আর্থিক সহায়তাসহ সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার ব্যাপারে বনপাড়া হাইওয়ে থানার এসআই আলমগীর হোসেন জানান, ভোরে নাটোর থেকে বালুবোঝাই ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো ট ২২-৬২০৬) সঙ্গে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী যাত্রীবাহী বাস আরপি স্পেশালের (ঢাকা মেট্রো ব ১২-৪৪৪৫) মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে নেওয়া হলে সেখানে আরও পাঁচজন মারা যান। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নাটোর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আক্তার হামিদ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নাটোরের স্থানীয় হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরাদপুর গ্রামের আবদুুল হাকিমের ছেলে সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ারুল হক (৩০), পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব সুবিধখালী গ্রামের আজহার হাওলাদারের ছেলে শহীদুল ইসলাম (৪৫) ও শহীদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮), শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের জহরউদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৪০), একই উপজেলার ডুবি সাহিবর গ্রামের ইউনুস আলী শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার (৩০), জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে আবদুস সালাম মোল্লা (৪৬), আরব আলী ফকিরের ছেলে আবদুস সামাদ ফকির (৭০), পালের চর গ্রামের আবদুর রাজ্জাক ব্যাপারীর ছেলে শাহীন আহমেদ (৩২), ট্রাকচালক ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বড় মান্দারবাড়িয়া গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে আবু কালাম (৫৫), নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার ঘোনটোলা গ্রামের সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে রাসেল (৩৩) ও ফরিদপুর সদর উপজেলার বাখোন্দিয়া গ্রামের অমর কুমার জমাদারের ছেলে হিমেশ জমাদার (৩৫)। ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের রেজুর মোড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ৩৮ জনের। ঠিক ১২ বছর পর আবারো সেই ২০ অক্টোবরেই বনপাড়ায় ১৪ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার খবর পেয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সংসদ সদস্য আবদুুল আজিজ, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক ও ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে প্রধান করে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক, ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস এবং বনপাড়া হাইওয়ে থানার ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেনসহ মোট সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ নাটোর সদর হাসপাতালে গিয়ে আহত রোগীদের খোঁজখবর নেন। নাটোরের পুলিশ সুপার শরীফুল হক বলেন, এটা সরু সড়ক। তারপরও বেপরোয়া গতিতে অসতর্ক হয়ে গাড়ি চালনাই সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় রেখে পরিচয় শনাক্ত করার পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
