বায়ার্নকে থামিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পিএসজি

অনলাইন ডেস্ক

ফের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। বুধবার রাতে অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফরাসি জায়ান্টরা।

গত সপ্তাহে প্যারিসে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৫-৪ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল পিএসজি। সেই লিড ধরে রেখে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনালে ওঠে তারা। আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে পিএসজি।

ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে যায় পিএসজি। উসমান দেম্বেলের দুর্দান্ত ফিনিশে আসে গোলটি, যেখানে অসাধারণ ভূমিকা ছিল খিচা কাভারাতসেখেলিয়ার। বাম প্রান্ত দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে বায়ার্নের রক্ষণভাগ ভেঙে দেম্বেলের উদ্দেশে নিখুঁত কাটব্যাক পাস দেন তিনি, আর তা থেকেই জালে বল জড়ান ফরাসি ফরোয়ার্ড।

ম্যাচের ৩০ মিনিটের পর রেফারিং নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বায়ার্ন শিবির। নুনো মেন্ডেসের একটি সম্ভাব্য হ্যান্ডবলের আবেদন নাকচ করে দেন রেফারি, যদিও এর আগেই তিনি একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। কিছুক্ষণ পর পিএসজির পেনাল্টি বক্সে জোয়াও নেভেসের বিরুদ্ধেও হ্যান্ডবলের দাবি তোলে বায়ার্নের খেলোয়াড়রা, কিন্তু সেখানেও সাড়া দেননি ম্যাচ অফিসিয়ালরা।

এই ম্যাচে অ্যাসিস্ট করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন কাভারাতসেখেলিয়া। তিনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমের নকআউট পর্বে টানা সাত ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট করার কীর্তি গড়লেন। চলতি মৌসুমে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০-এ, সঙ্গে রয়েছে ৬টি অ্যাসিস্ট— যা কিলিয়ান এমবাপ্পের পরিসংখ্যানের সমান।

দ্বিতীয় লেগে নামার আগে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা দল ছিল পিএসজি ও বায়ার্ন। দুই দলের গোলসংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৪৩ ও ৪২। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এই প্রথম একই মৌসুমে দুটি দল ৪০-এর বেশি গোল করার রেকর্ড গড়ল, যেখানে নতুন ‘লিগ ফেজ’ ফরম্যাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

পুরো ম্যাচজুড়ে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও শেষ পর্যন্ত হ্যারি কেইনের শেষ মুহূর্তের সান্ত্বনাসূচক গোল ছাড়া আর কিছুই আদায় করতে পারেনি বায়ার্ন। ফলে ২০১৩ ও ২০২০ সালের মতো আবারও ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেল জার্মান ক্লাবটির।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্সেনাল। এবার শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই জায়ান্ট— পিএসজি ও আর্সেনাল। পিএসজি এখন রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। রিয়াল মাদ্রিদ ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে টানা তিনবার এই শিরোপা জিতেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights