বালুবাহী বাল্কহেডের দাপট : দুই তীরে ভয়াবহ ভাঙন, আতঙ্কে ৫ শতাধিক পরিবার

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ডহরি-তালতলা খালে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আবারও দাপটের সঙ্গে চলছে বালুবাহী বাল্কহেড। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র চাঁদা নিয়ে এসব বাল্কহেড চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছে। এতে খালের দুই তীরে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।

আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে আশপাশের ৫ শতাধিক পরিবার। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে হাড়িদিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প, বসতবাড়ি, কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মে লৌহজং উপজেলা প্রশাসন ডহরি-তালতলা খালে বাল্কহেড চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে বর্তমানে দিন-রাত নির্বিঘ্নে শত শত বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল করছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

তাদের দাবি, গত এক সপ্তাহে বাল্কহেডের সৃষ্ট ঢেউয়ে হাড়িদিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের অংশ, গোয়ালঘর, কৃষিজমি এবং খালের দুই পাড়ের অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থাপনা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ ও স্থানীয় বাজার।

স্থানীয়রা জানান, ২০২৩ সালে এ খালে বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি পিকনিকের ট্রলার ডুবে নারী ও শিশুসহ ১০ জন নিহত হন। এর আগেও বাল্কহেড দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খালে বাল্কহেড চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, একসময় নিয়মিত অভিযান চললেও বর্তমানে তা শিথিল হওয়ায় আবারও সক্রিয় হয়েছে বাল্কহেড চলাচল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গাঁওদিয়া গ্রামের রুবেল মাদবর ও আল-আমিন মাদবরের নেতৃত্বে একটি চক্র বাল্কহেড থেকে চাঁদা আদায় করছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ফোনের মাধ্যমে বাল্কহেড এনে অর্থের বিনিময়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। হাড়িদিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা খায়রুন নেছা ও আন্না বেগম বলেন, বাল্কহেডের ঢেউয়ে আমাদের গোয়ালঘরের অংশ ভেঙে গেছে। আরেকটু ভাঙলে ঘরও নদীতে চলে যাবে।

নুরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর বেপারী বলেন, এক সপ্তাহ আগে আমার একটি ঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। আরেকটি ঘরও ভাঙনের মুখে। বাল্কহেড বন্ধ না হলে বাপ-দাদার ভিটেমাটিও হারাতে হবে। তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুবেল মাদবর। তিনি বলেন, আমরা জোর করে টাকা নিই না। সুকানিরা খুশি হয়ে কিছু টাকা দেয়।

এ বিষয়ে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেলে অবৈধ বাল্কহেডগুলো সরে যায়। এগুলো বন্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সমন্বয়ে কমিটি করা হয়েছে। অবৈধ চলাচল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাওয়া নৌ-পুলিশ স্টেশনের ইনচার্জ (আইসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, খালে নিয়মিত টহল চলছে। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়মিত মামলা ও মোবাইল কোর্ট ছাড়া চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights