বালোগান বললেন, ‘কখনও দুঃখ পেয়েছি, কখনও আনন্দ হয়েছে’
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়াকে ২-০ গোলে হারায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ ম্যাচে জয়ের চেয়েও মার্কিন ফরোয়ার্ড বালোগানের লাল কার্ড নিয়ে তুমুল বিতর্ক দেখা দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও থেকে শুরু করে অনেকে এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
এবার নিজের লাল কার্ড নিয়ে কথা বলেছেন ফোলারিন বালোগান। তিনি বলেছেন, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে পাওয়া লাল কার্ডটি ছিল একটি কঠোর সিদ্ধান্ত। তবে শেষ ষোলোর লড়াইয়ের বেলজিয়ামর বিপক্ষে নিজেকে একজন উৎসাহদাতা ভূমিকায় দেখত চান তিনি।
বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তিনি বিশ্বকাপের নিজের তৃতীয় গোলটি করে যুক্তরাষ্ট্রকে শুরুতেই এগিয়ে দিয়েছিলেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের গোড়ালির ওপর পা পড়ায় তাকে মাঠ থেকে বহিষ্কার করা হয়। সব মিলিয়ে মোনাকোর এই ফরোয়ার্ডের জন্য ম্যাচটি ছিল বেশ ঘটনাবহুল।
যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো এই লাল কার্ডের সমালোচনা করে একে ‘দুর্ঘটনাবশত শারীরিক সংস্পর্শ’ হিসেবে অভিহিত করেন। বালোগানও সেই মতের সঙ্গে একমত পোষণ করে ঘটনাটিকে ‘অনিবার্য’ বলে উল্লেখ করেন।
ম্যাচ-পরবর্তী সময়ে বালোগুনের অনুভূতি ছিল মিশ্র, তিনি তার গোল উদযাপনের বিষয়ে এনবিএ-র কিংবদন্তি লেব্রন জেমসের প্রতিক্রিয়াকে ‘অবাস্তব এক মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
অনুশীলনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নানা আবেগের দোলাচলের কথা তুলে ধরেন। এই ফুটবলার বলেন, কখনও দুঃখ পেয়েছি, কখনও আনন্দ হয়েছে—সত্যি বলতে পুরো বিষয়টিই ছিল এক অবাস্তব অভিজ্ঞতার মতো। সবার আগে এটা বলা জরুরি, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। আমি নিশ্চিত অনেকেই তা জানেন। আমার মনে হয় না সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। আমার মতে, হলুদ কার্ড দিলেই তা ন্যায্য হতো।
তবে বালোগান জোর দিয়ে বলেন, মাঠে খেলতে না পারলেও পরবর্তী ম্যাচে দলের জন্য তার ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, মূলত সতীর্থ ও দলকে সমর্থন জোগানোই আমার কাজ। আমাদের এই যাত্রা এবং কর্মকাণ্ডের প্রতি দেশের মানুষের যে গভীর সম্পৃক্ততা ও আগ্রহ, তা দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। আমি মনে করি, সবার পাশে থাকা এবং দলের মনোবল চাঙ্গা রাখাই এখন আমার ভূমিকা।
আগামী ৭ জুলাই শেষ ষোলোর লড়াইয়ের বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামবে যুক্তরাষ্ট্র।
