বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগ, টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন
নাটোর প্রতিনিধি
বিদেশে পাঠানোর নামে ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের বিলশা গ্রামে মানববন্ধন করেছেন চারটি ভুক্তভোগী পরিবার। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বিলশা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, একই গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং জয়নাল আলীর ছেলে শাওন আহম্মেদ গোলাপ ২০২৩ সালের ৩ নভেম্বর চার যুবককে মালয়েশিয়া পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে মোট ২৪ লাখ টাকা নেন। পরে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলেও টাকা ফেরত দেননি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, রেজাউল করিম রকি, সুরুজ আলী, সুমন ও লালু ফকিরের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের লিখিত চুক্তিপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে। বারবার টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা হুমকি-ধমকি দেন। এ নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে তারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সেনাক্যাম্প এবং আদালতের শরণাপন্ন হন।
মানববন্ধনে কাজলী বেগম, পারভীন খাতুন, হাসিনা বেগম, ফরিদা বেগম ও চান্দু প্রামাণিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে উল্টো মিথ্যা অপহরণ মামলার আসামি হতে হয়েছে। তাদের দাবি, গত ৪ আগস্ট আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে অভিযুক্তরা অপহরণের নাটক সাজিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় বর্তমানে দুজন কারাগারে রয়েছেন। তারা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আত্মসাৎ হওয়া টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চারজন বৈদেশিক কর্মসংস্থান অফিসের মাধ্যমে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। টাকা জমা দেওয়ার সময় তিনি ও গোলাপ উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেননি।
খুবজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম দোলন বলেন, বিষয়টি নিয়ে তার উদ্যোগে একটি সমঝোতা বৈঠক হয়েছিল। সেখানে অভিযুক্তরা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে পরে ভুক্তভোগীরা টাকা পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তার জানা নেই।
