‘বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা নেতানিয়াহু-বিন জায়েদের সাজানো নাটক’

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে জড়িয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ইরানকে দায়ী করে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার পরিবেশ তৈরি এবং ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে বিমান ছিনতাইয়ের একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ ঘটনা সাজানো হয়ে থাকতে পারে।

প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্ন থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোও এ ধরনের পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে কাজে লাগিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরুর ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব ছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই-তেলআবিবগামী ওই ফ্লাইট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন ধরনের ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। এসব পোস্টে ঘটনাটিকে ইসরায়েলের নির্বাচন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজও ঘটনাটিকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ দাবিগুলোকে যাচাই করে জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত তখনও প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল এবং হামলার উদ্দেশ্য ও হামলাকারীর পটভূমি নিয়ে তথ্য পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেলআবিব যাওয়ার পথে ফ্লাইদুবাইয়ের ওই উড়োজাহাজে ককপিটে গুরুতর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, কো-পাইলট ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করেন। এতে দুজনই আহত হন। একপর্যায়ে বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে জরুরি অবতরণের জন্য সৌদি আরবের তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে। বিমানটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু ছিলেন।

ঘটনার সময় বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল এবং অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আহত ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হলে যাত্রী ও বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা কো-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন। পরে বিকল্প ক্রুরা বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করান।

প্রেস টিভির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার তিন দিন আগে নেতানিয়াহু অত্যন্ত গোপন সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এরপরই বিমানটির ঘটনাকে ওই সফরের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে ‘পরিকল্পিত অপারেশন’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন। কাৎজ একে ‘জিহাদি সন্ত্রাসী হামলার প্রচেষ্টা’ বলে দাবি করেন। নেতানিয়াহুও বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন এবং ঘটনাটিকে ৯/১১-এর সম্ভাব্য বিপর্যয়ের সঙ্গে তুলনা করেন। তবে ফ্লাইদুবাই সে সময় জানিয়েছিল, ঘটনার কারণ ও উদ্দেশ্য নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি এবং আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে।

‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযোগ অস্বীকার ইসরায়েলের
বিমান ঘটনাকে ইসরায়েল পরিকল্পিত ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযান হিসেবে দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। অস্ট্রেলিয়ায় ইসরায়েলি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ষড়যন্ত্রতত্ত্বের নিন্দা করেছে। দূতাবাসের বক্তব্য, এসব দাবিতে ইহুদিদেরই ঘটনার জন্য দায়ী হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং তারা এটিকে ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্রতত্ত্ব হিসেবে অভিহিত করেছে।

এদিকে, ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনাটি নিয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্যে ককপিটে কো-পাইলটের হামলার কথা বলা হলেও ঘটনার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য বা পেছনের কারণ নিয়ে তদন্ত শেষ হয়নি।

সূত্র: প্রেস টিভি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights