বিশ্বকাপে নজর কাড়ছে মিশর, বিতর্কে কোচ হোসাম হাসান

অনলাইন ডেস্ক

মিশর ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে। ১৯৩৪ সালের পর প্রথমবারের মতো তারা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে এবং শেষ ৩২-এ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে মাঠের এই সাফল্যের পাশাপাশি দেশটির জাতীয় দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসানকে ঘিরে ফুটবল ও রাজনীতির সম্পর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারানোর পর মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি জাতীয় দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠান। এর জবাবে হোসাম হাসান এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আল-সিসির অভিনন্দনবার্তা তার কাছে ‘বুকে ঝোলানো একটি পদকের’ মতো। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে মিশরের ক্রীড়াঙ্গনে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে।

৫৯ বছর বয়সী হোসাম হাসান মিশরের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি তিনবার আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জিতেছেন। কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি সফলতা দেখিয়েছেন। তার অধীনে মিশর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ২৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে অপরাজিত থেকে মূল পর্বে জায়গা করে নেয়। এরপর বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে আসরের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয় এবং পরে নকআউট পর্বও নিশ্চিত করে।

তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোসাম হাসানের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে অনেক সময় ফুটবল ও রাজনীতির সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তিনি প্রায়ই জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিজের অবস্থান থেকে রাষ্ট্রের নেতৃত্বের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন ও কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রতিবেদনে ২০১৯ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের পরের একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। সে সময় মিশরের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর প্রেসিডেন্ট আল-সিসি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, বিদেশি কোচের পরিবর্তে দেশীয় কোচদের ওপর আস্থা রাখা উচিত। পরে ২০২৪ সালে পর্তুগিজ কোচ রুই ভিতোরিয়াকে সরিয়ে হোসাম হাসানকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেয় মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

বিশ্বকাপ চলাকালেই হোসাম হাসান সাংবাদিকদের জানান, তার চুক্তির মেয়াদ ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়ে গেছে। তবে তিনি এখনও জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকেই দল পরিচালনা করছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ট্রফি প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে মিশরের ক্রীড়ামন্ত্রী আশরাফ সোবহি সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের জাতীয় দলের কোচিং স্টাফকে প্রকাশ্যে সমালোচনা না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেমন দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশে দাঁড়ানো হয়, তেমনি জাতীয় দলের কোচিং স্টাফেরও পাশে থাকা উচিত।

বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পর হোসাম হাসানও বলেন, সাফল্য আসে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব থেকে এবং তার সবচেয়ে বড় পুরস্কার হবে প্রেসিডেন্ট আল-সিসির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়া। তিনি আরও বলেন, দেশের নেতৃত্ব এমন দায়িত্ব বহন করছে, যা অন্য কারও পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে হোসাম হাসান ও তার যমজ ভাই এবং জাতীয় দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসান ৩০ জুনের বিক্ষোভের বার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিবৃতি দেন। সেই বিবৃতিতে তারা দিনটিকে ‘মর্যাদার প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত এক দশকে মিশরের ফুটবলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত যেমন স্পনসরশিপ, টিকিটিং ব্যবস্থা, সম্প্রচার, স্টেডিয়াম পরিচালনা এবং বিশ্বকাপ ফ্যান জোন রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে জাতীয় দল ও সমর্থকদের মধ্যে যোগাযোগের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

সূত্র : গার্ডিয়ান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights