বিশ্বকাপে মুসলিম ফুটবলারদের জয়জয়কার, ইউরোপকে ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে ফুটবল

অনলাইন ডেস্ক

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ কেবল মাঠের লড়াইয়ের জন্যই আলোচনার কেন্দ্রে নেই। বরং ইউরোপীয় সমাজে ইসলামের অবস্থান নিয়ে চলা দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গত কয়েক দশকে ইউরোপের রাজনীতিতে ইসলামকে একটি স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে দেখা হয়। তবে এবারের বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্স আর খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত বিশ্বাস সেই পুরনো ধ্যান-ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল যখন সৌদি আরবের বিপক্ষে গোল করে মাঠেই সিজদা করে নিজের বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন, তখন তা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর আগে বার্সেলোনায় খেলার সময় তাকে নিয়ে হওয়া বর্ণবাদী বা বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জবাবে তিনি গর্বের সাথেই নিজের ধর্মীয় পরিচয় তুলে ধরেছেন।

কেবল ইয়ামাল একা নন, জার্মানির আন্তোনিও রুডিগার কিংবা সুইডেনের ইয়াসিন আয়ারির মতো খেলোয়াড়রাও তাদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস প্রকাশের কারণে রাজনীতিক ও কিছু মহলের সমালোচনার শিকার হয়েছেন। এই ঘটনাগুলো মূলত ইউরোপের সেই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে নিয়ে এসেছে, যা ইসলামকে কেবল ‘বিদেশি’ কিছু হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করে।

তবে মাঠের বাইরের এই টানাপোড়েনের উল্টো চিত্রও রয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলে এখন মুসলিম খেলোয়াড়দের সংখ্যা বাড়ছে, যাদের অনেকেই জন্মগতভাবে মুসলিম, আবার অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করেছেন। নেদারল্যান্ডসের ক্ল্যারেন্স সিডর্ফ কিংবা ফ্রান্সের পল পগবার মতো তারকাদের উত্তরসূরি হিসেবে এখন কেপ ভার্দের মতো দলের খেলোয়াড়রাও ইসলামে দীক্ষিত হয়ে নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করছেন। জ্যামিরো মন্টেরো, লোগান কস্তা কিংবা স্টিভেন মোরেইরার মতো খেলোয়াড়রা জানিয়েছেন, সতীর্থদের সংস্পর্শে এসে ইসলামের শান্তির বাণী তাদের জীবনকে কতটা বদলে দিয়েছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই ফুটবলাররা তাদের জাতীয় দলের জন্য খেলছেন এবং সেখানে ধর্মের চেয়ে বড় পরিচয় হয়ে উঠছে তাদের পেশাদারিত্ব ও জাতীয় ঐক্য। কেপ ভার্দের মতো দলের মুসলিম ও খ্রিস্টান খেলোয়াড়দের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার দৃশ্যটি প্রমাণ করে যে, ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ একই পতাকাতলে একীভূত হতে পারে।

বিশ্বকাপে ফুটবল মাঠগুলো আজ কেবল গোলের আনন্দই ছড়াচ্ছে না, বরং এটি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আধুনিক ইউরোপীয় সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে ইসলাম। বিদ্বেষের বেড়াজাল ভেঙে মাঠের এই খেলোয়াড়রা এক নতুন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইউরোপের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights