বিশ্বকাপ সম্প্রচারে শতকোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। ১১ জুন স্বাগতিক মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াচ্ছে ফুটবল মহাযজ্ঞ। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এবারই প্রথম অংশ নিচ্ছে ৪৮ দেশ। আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল সরাসরি দেখাচ্ছে ১৯৮২ সাল থেকে। অবশ্য ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল সরাসরি দেখিয়েছিল বিটিভি। ১৯৭৮ সালে সরাসরি না হলেও বিশ্বকাপের অনেক ম্যাচ সম্প্রচার করেছিল রেকর্ডেড। বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা শুরু হয়ে গেছে দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের। একই সঙ্গে সম্প্রচার স্বত্বের জন্য আবার বাংলাদেশ ম্যাচ দেখানোও শঙ্কার বেড়াজালে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দর্শক খেলা দেখবেন, আশা করাই যায়। সেজন্য হয়তো বড় অঙ্কের অর্থের অপচয় হতে পারে। বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্বকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে শতকোটি টাকার ওপর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ইতোমধ্যে। দরপত্রের অতিমূল্যায়ন এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময় বিটিভিকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে একটি সিন্ডিকেট অস্বাভাবিক ব্যয় করেছিল। সেই একই সিন্ডিকেট আসন্ন বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়েও একইভাবে সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সিন্ডিকেট চক্রে জড়িত বাফুফে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে খেলা সম্প্রচারের জন্য বিটিভিকে বলা হয়েছিল টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচারের জন্য আলাদা লাইসেন্স লাগবে। এই যুক্তিতে বিটিভি প্রায় ১০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় করেছিল, অভিযোগ রয়েছে। অথচ অতীতে বিশ্বকাপগুলোর স্বত্ব বেসরকারি সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান কিনলেও বিটিভি আলাদা বড় অঙ্কের সঙ্গে সঙ্গে সম্প্রচার সুবিধা পেত। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কাতার বিশ্বকাপের মূল সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ অগ্রিম অর্থ ছিল প্রায় ২৪ কোটি টাকা। ডিজিটাল রাইটস থেকে প্রায় ১৪ কোটি টাকা আয় হয়েছিল। এর বাইরে বিটিভিকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছিল। বিশ্বকাপের গত আসরে বাংলাদেশি সম্প্রচার স্বত্বের আন্তর্জাতিক স্বত্বধারী ছিল সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যাভেমোর প্রাইভেট লিমিটেড (আবসড়ৎব চঃব খঃফ)। পুরো রাইটস প্যাকেজের মূল্য ছিল প্রায় ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এবারের বিশ্বকাপে আন্তর্জাতিক সম্প্রচার স্বত্ব হিসেবে কাজ করছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক প্রাইভেট লিমিটেড (ঝঢ়ৎরহমনড়শ চঃব খঃফ)। বিশ্বস্ত সূত্র জানাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৭ দশমিক ২১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে স্বত্ব কিনেছে। প্রতিষ্ঠানটি বিটিভির কাছে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে। শুধু তাই নয়, স্যাটেলাইট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে আরও প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার আয়ের পরিকল্পনা ছিল। বিটিভি অবশ্য আগ্রহী হয়নি এত অর্থ ব্যয় করতে। জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তির যে ৬০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করতে হয়, সেটা পরিশোধ করা হয়নি। বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন বাজার ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা। জানা গেছে, কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে সম্মত ছিল। কিন্তু ৭০ থেকে ১২০ কোটি টাকা বিনিয়োগের বাস্তবতা খুঁজে পায়নি। সেজন্য বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার একটু শঙ্কায় পড়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights